গাছের সঙ্গে দু’হাত বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

0
1064

খুলনায় নিয়ামুল করিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জনৈক জমি ব্যবসায়ী ও তার ক্যাডাররা নির্মমভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে নিহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার বিকালে রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে পিঠ মোড়া দিয়ে দু’হাত বেঁধে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিয়ামুল মারা যান।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের কথিত জমি ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের ম্যানেজার ছিলেন একই গ্রামের নিয়ামুল করিম। টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে নিয়ামুলের সঙ্গে মালিক হান্নানের বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে হান্নানের সহযোগী জিহাদ, মিরাজ ও মিজানুরসহ ৫/৬ জন যুবক নিয়ামুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ভৈরব নদীর পাড়ে হান্নানের ডক ইয়ার্ডের পাশে খেজুর বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে হান্নানের নেতৃত্বে জিহাদ, মিরাজ ও মিজানুরসহ ৫/৬ জন নিয়ামুলকে গাছের সঙ্গে পিঠ মোড়া দিয়ে দু’হাত বেঁধে প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে নির্যাতন করে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ামুলের পিতা এবং আরো কয়েকজন হান্নান এবং তার সহযোগীদের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতির পর তারা নিয়ামুলকে ছেড়ে দেয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিয়ামুল মারা যান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কথিত জমি ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি, প্রতারণা, মাদক ব্যবসা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা থাকার কারণে তাকে এলাকার কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। নিহত নিয়ামুল করিম রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের সাইদুল করিমের ছেলে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতরা আত্মগোপন করেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

খুলনা জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি (ডিএসবি) আব্দুল হালিম বলেন, আব্দুল হান্নান জমি ব্যবসা করেন। নিয়ামুল তার ম্যানেজার ছিলেন। নিয়ামুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে- এমন অভিযোগে হান্নান তার লোকজন নিয়ে নিয়ামুলকে মারধোর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে তিনি মঙ্গলবার সকালে মারা যান। নিয়ামুলের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন