রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নেতাকে ছাত্রলীগের মারধর, পাল্টাপাল্টি অস্ত্র মহড়া

0
1155
ধারালো অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কর্মী।
ধারালো অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কর্মী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবিরের এক নেতাকে মারধর করে পুলিশে দেওয়ার প্রতিবাদে মিছিল করেছে ছাত্রশিবির। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিবির এবং ক্যাম্পাসে মহড়া দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আটক আরিফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওর্য়াদী হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারী ও ফারসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শিবিরের ওই নেতাকে (আরিফ) আটক করা হয়। এসময় তার ফোনে অনেকেই ফোন দিচ্ছিল। এর মধ্যে ওই হলের সভাপতিও ছিল। এসময় ছাত্রলীগ একত্রিত হয়। পরে কৌশলে তাদের ধরতে আরিফকে বলতে বলা হয় যে, ‘আমি মেইন গেটে আছি আপনি আসেন।’ এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা বেতার মাঠে জড় হলে হঠাৎ করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে আরিফ। পরে তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে মারধর করে বঙ্গবন্ধু হলে (২২২ নং কক্ষে) এনে ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়

মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হচ্ছে আরিফকে

এ ঘটনার পরপরই বিনোদপুরের বেতার মাঠ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বের হয়ে মন্ডলের মোড় পর্যন্ত মিছিল করে শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায় তারা।

পরে দেশিয় অস্ত্র চাপাতি, রামদা, কিরিচ, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘এর আগেও হল থেকে আরিফকে পুলিশে দেয়া হয়েছিল। আজ ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরির সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে ধরে পুলিশে দেয়। শিবির নেতাকে পুলিশে দেওয়ার পরই শিবির মিছিল ও ককটেল চার্জ করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থান নেয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিকেলে সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করছিল। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও ছিল। কিছুদিন আগে তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলাম আমরা। ওই মামলার আসামিও সে। যাতে সে ১৫ দিন জেলে ছিল। যার কারণে নেতাকর্মীরা তাকে চিনতে পারে। পরে তাদের ধাওয়া দিয়ে ওকে ধরা গেছে। বাকিরা পালিয়েছে। পরে তাকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছি। এরপর শিবির মিছিল করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে আমরা এ বিক্ষোভ মিছিল করেছি।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর আবাসিক হলগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি শুনেছি শিবিরের একজনকে পুলিশে দিয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি তো এখন প্রক্টরের দায়িত্বে নাই। ছাত্রউপদেষ্টাকে দেওয়া আছে। তারপরও সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।’

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘শুনেছি শিবিরের একজনকে পুলিশে দেওয়ার পরে বিনোদপুরে তারা ঝটিকা মিছিল করেছে। কিন্তু ছাত্রলীগ যে অস্ত্র মহড়া করেছে তা শুনিনি। আমরা ক্যাম্পাসে সতর্কতা বাড়িয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আরিফুর রহমান নামের শিবিরের একজনকে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

মন্তব্য করুন