আসামীদের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন- চলন্তবাসে রূপা হত্যাকান্ডের ঘটনায়

0
775

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্তবাস থেকে ফেলে দিয়ে যুবতী রূপা হত্যাকান্ডের ঘটনায় নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। চার্জসীটভ্ক্তু আসামীদের পরিবার ও আত্বীয় স্বজন সোমবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবী করা হয় নিহত রূপা মুক্তা পরিবহনের যাত্রী এবং মুক্তা পরিবহনের বাস থেকে পড়ে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পরও অজ্ঞাত কারণে নিরাপদ ছোয়া পরিবহনের চালক ও হেলাপারকে আসামী করে পুলিশ চার্জসীট প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের আটক করে ভয়ভীতি, হুমকি ও মারধর করে স্বিকারোক্তি আদায় করে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের অরুণখোলা পচিশমাইল এলাকা থেকে গত ২৫ আগষ্ট রূপা খাতুন নামে এক যুবতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের নামে মধুপুর থানায় মামলা নং- ২৪ দায়ের হয়। মামলায় পুলিশ বগুড়া-ময়মনসিংহ রোডে চলাচলকারী নিরাপদ ছোয়া পরিবহনের হেলপার মুক্তাগাছার শামীম, ময়মনসিংহ সদরের আকরাম, জাহাঙ্গীর আলম, চালক হাবিব ও সুপারভাইজার ছবর আলীকে আটক করে।

আলোচিত এ মামলায় পুলিশ নিবীড় তদন্ত না করে আটককৃতদের মারধর, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে পুলিশ ও আদালতের কাছে স্বিকারোক্তি দিয়ে বাধ্য করে। বিশদ তদন্ত না করে আলোচিত এ মামলাটি কথিত স্বিকারোক্তির উপর ভিত্তি করে গত ২৫ অক্টোবর আদালতে চার্জসীট দাখিল করে। এ নিয়ে নানা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার এ মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামীর পরিবার ও আত্বীয় স্বজন ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করেন।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেলপার ছবর আলীর মেয়ের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় আসামী শামীমের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস শিখা, আসামী চালক হাবিবের বোন ফাতেমা আক্তার, চালক হাবিবের চাচা ও শামীমের মামা জামাল উদ্দিন, খাগডহর ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মনির, ইয়াজ উদ্দিন নবী ও এলাকাবাসী রাশিদুল ইসলাম রবিনসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম খাগডহর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক যাত্রী ও বাসের হেলপার বিল্লাল হোসেনের বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ উল্লেখিতদের আটকের পর তাদের পরিবার এবং এলাকাবাসী বিল্লালের কাছ থেকে জানতে পারেন গত ২৫ আগষ্ট তার গাড়ীটি বিকল বা নষ্ট হয়ে পড়ে।

এতে বিল্লাল হোসেন বগুড়া ময়মনসিংহ রোডে চলাচলকারী মুক্তা পরিবহন নামের গাড়ীতে করে বাড়ী আসছিলেন। পথিমধ্যে মধুপুরে মুক্তা পরিবহনের চলন্ত ঐ গাড়ী থেকে রূপা খাতুন নামের ঐ যুবতি পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে মুক্তা পরিবহনের চালক হেলপাররা গা ডাকা দেয় এবং ছোয়া পরিবহনের গাড়ীটি নিয়মিত রাস্তায় চলাচল করে।

এদিকে আলোচিত এ মামলা থেকে রেহাই পেতে পুলিশ তদন্তের নামে দায়সারা দায়িত্ব পালন করে দাবি আসামীদের পরিবারের।

হত্যাকান্ডের মূল ঘাতকদের গ্রেফতার না করে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলেও নিরাপদ ছোয়া পরিবহনের চালক ও হেলপারদের গ্রেফতার করে। পরে ভয়ভীতি ও মারধর করে আদালতে স্বিকারোক্তি আদায় করে ঐ স্বিকারোক্তির ভিত্তিতে চার্জসীট প্রদান করে।

সংবাদ সম্মেলনে এ আলোচিত মামলাটি অধিকতর তদন্তসহ ঘটনার সময় যাচাইয়ে যমুনা ব্রীজে গাড়ী পারাপারের ভিডিও ফুটেজ যাচাই, যাত্রী বিল্লাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আসামীদের পরিবার।

মন্তব্য করুন