ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র শাওন হত্যার রহস্য ২৪ ঘন্টা মধ্যে উদঘাটন

0
517

স্টাফ রিপোটার: ময়মনসিংহ নগরীতে গত ৮ অক্টোবর কলেজ ছাত্র শাওন (১৯) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শাহ্ আবিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওই দিন নগরীর গোলপুকুরপাড় প্রাত সংঘ পূজামন্ডপের দূর্গাপ্রতিমা বিসজনের প্রস্তুতির প্রাক্কালে বহিরাগত ৩ টি গ্র“প (মুন্না গ্র“প, আবির গ্র“প ও মাহিন গ্র“প) নাচানাচিতে অংশগ্রহন করে। নাচানাচির এক পর্যায়ে মাহিন গ্র“পের সঙ্গে আবির গ্র“পের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এরই জের ধরে তিন গ্র“পে মারামারি শুরু হয়। এ সময় মাহিন তার নিজ প্যান্টের পকেট হতে সুইজ গিয়ার চাকু (অত্যাধুনিক) বের করে এলোপাথারি চালাতে থাকলে অপর গ্র“প নেতা আবির আহত হয়। এর পরই মাহিন শাওনের বুকে চাকু মারে। গুরুতর আহত শাওনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সাথে সাথে শাওন মারা যায়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, এ সংবাদটি পাওয়া মাত্রই তিনি কোতোয়ালী মডেল থানা ও ডিবি পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিকল্পিত ও নির্মম এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতারে করা হয়। এদের মধ্যে আসামী মাহিন যে দোকান থেকে চাকু কিনেছে পুলিশ ঐ দোকানদারকে সনাক্ত করে। গ্রেফতারকৃত মাহিন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকাসহ তার অপর সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এবং দোকানদার ইসলাম উদ্দিন একইভাবে আদালতে জবানবন্দি দেয় মাহিন তার দোকান থেকে তিনদিন আগে ৩২০টাকা দিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃদ চাকু ক্রয় করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো নগরীর আর কে মিশন রোডের সেম্মত আলীর ছেলে মাহফুজুল ইসলাম মাহিন, নওমহল পানির ট্যাংকী এলাকার আশীষ চন্দ্র দে’র ছেলে আকাশ চন্দ্র দে, আরকে মিশন রোডের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে সারোয়ার উদ্দিন হৃদয়, বাঘমারার আসলামের ছেলে ফারদিন, বাঘমারার হারুন অর রশিদের ছেলে সাজ্জাদ, চরপাড়া কপিতে এলাকার মৃত হোসেন এর ছেলে মুন্না ও ঈশ্বরগঞ্জের মরিচার চরের সিদ্দিকুলের ছেলে রাকিব।

প্রেস ব্রিফিং-এ উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আল-আমিন, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম, ডিবি’র ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ, ডিআইওয়ান মুখলেছুর রহমান আকন্দ, কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার শাকের আহমেদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি এড. তপন চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট প্রমুখ।

পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো বলেন, এ ধরণের অত্যাধুনিক চাকু যাতে কোন দোকান ময়মনসিংহে বেচাকেনা না করে তার লক্ষে এর আগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৬ শতাধিক অত্যাধুনিক চাকু বিভিন্ন দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়। এবং এ ধরণের চাকু বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়। তিনি বলেন, এর পরও কতক দোকানদান এসব চাকু বিক্রি করে আসছে। ভবিষ্যতে কোন দোকানদার এ ধরণের চাকু বিক্রি করলে এবং ঐ চাকু দ্ধারা কোন অপরাধ সংঘটিত হলে দোকানদারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দূর্গাপূজা শুরুর আগেই কোতোয়ালী মডেল থানার আয়োজনে এক সভায় বিভিন্ন মন্দির ও পুজা উদযাপন পরিষদের নেব্বৃন্দের উদ্দেশ্যে আহবান করেছিলেন, রাত আটটার আগে সকল প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। সঠিক সময়ে এ সকল প্রতিমা সির্জন দিলে হয়তবা এ ধরণের অপরাধ সংঘটিত হতো না। তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, এ ধরণের অপরাধ যাতে আর না ঘটে সেই ল্েয বিশেষ নজর রাখতে হবে। এছাড়া মন্দিরের বাইরে যারা রাস্তায় মন্ডপ তৈরী করে পূজা উদযাপন করেন, নিজ দায়িত্বে আগে থেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আরো বলেন, উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেমের প্রতি আসক্ত এবং উন্মুক্ত হয়ে যুব সমাজ নাচানাচি শুরু করে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের অপরাধ সংঘটিত না হয় তার লক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সাথে পূজা মন্ডপগুলোতে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম যারা সরবরাহ করেন তাদেরকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।

মন্তব্য করুন