১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি পুলিশ সেনাবাহিনীর হাতে আটক

0
1015

কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শকসহ ৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে সেনাবাহিনী ৭ পুলিশকে আটক করে। এসময় ডিবি পুলিশের এক এসআই পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতরা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন আরফাত, এসআই আবুল কালাম আজাদ, গোলাম মোস্তফা, ফিরোজ আহমদ, এএসআই নুরুজামান, সিপাহী মোস্তফা আলমসহ ৭ জন।

আবদুল গফুরের ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান জানান, তার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা দাবির বিষয়টি শুরু থেকে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। টাকা দিয়ে ভাইকে মুক্ত করার পর সেনাবাহিনী ওই টাকা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, টেকনাফের জালিয়াপাড়ার ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে কক্সবাজার শহরের হোটেল আল গণির নিচ থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। পরে তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সেই দাবিকৃত টাকা না দিলে মেরে ফেলবে বলে অনবরত হুমকি দিতেই থাকে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী গফুর কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তার বাড়িতে কথা বলে যেভাবে পারে যে কোন মূল্যে টাকা সংগ্রহ করে তাকে বাঁচাতে। এখবর বাড়িতে পেয়ে তার আপন ভাই স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান টাকা নিয়ে ভোর ৪ টায় টাকা পরিশোধ করে। এরপর ৪ টা ১০ মিনিটে ছেড়ে দেয় ব্যবসায়ী গফুরকে। পরে টাকা নিয়ে ডিবি পুলিশের গাড়িটি বুধবার ভোরে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মেরিন ড্রাইভ সড়কের শাপলাপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে মাইক্রোবাসটি আটকে রেখে মুক্তিপণের ওই ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় ডিবি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও অপর ৭ জনকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব, পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের কক্সবাজারে নিয়ে আসা হয়।

ব্যবসায়ী আবদুল গফুর জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের থানা রোডে আল গনি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে রাত পর্যন্ত নির্যাতন চালানো হয়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে তাকে মাইক্রোবাসে করে মেরিন ড্রাইভে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ সময় ডিবি পুলিশ তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে।

প্রাণ বাঁচাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। বুধবার ভোরে টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তুমুল নিন্দার ঝড় উঠে পুরো কক্সবাজারে। মুুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে তাদের ছবি ও নিউজ। ডিবি পুলিশের এমন কলংক কাজ কক্সবাজার থেকে বিতাড়িত করতে অনেকেই মত দিয়েছেন। না হয় তাদের আস্থা এবং কাজে আরো বিশৃংখলা হবে বলে মন্তব্য করে

মন্তব্য করুন