ময়মনসিংহে মন্দির ভাঙ্গায় তীব্র ক্ষোভ আন্দোলনের হুমকি

0
3440

স্টাফ রিপোটার : ময়মনসিংহে গত রবিবার শহরের পাটগুদাম ব্রীজ এলাকায় রাজা বিজয় সিংহ দূরদূরিয়া শিব ও দূর্গা মন্দির জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম লোকমান হোসেন, সচিব বনানী বিশ্বাস এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে ভেঙ্গে ফেলা হয়। তবে মন্দির ভাঙ্গা বা সরানোর জন্য আগে থেকে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি।

জেলা পরিষদ জায়গাটি প্রথমে দাবি করলেও পরবর্তীতে তারা তা অস্বীকার করেন।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, কর্মকর্তারা এসে সব ভেঙ্গে ফেলেন। মূর্তিটিকে বাইরে ফেলে রাখা হয়।

মন্দিরের পুরোহিত জানান, মায়ের মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমার থাকার ঘরও ভাঙ্গা হয়েছে। জায়গা নিয়ে মামলা হচ্ছে। এটি দেবোত্তর সম্পত্তি। এ মন্দির ভাঁঙ্গা নিয়ে হিন্দু স¤প্রদায়ের মধ্যে বিশাল ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সভাপতি এড. বিকাশ রায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের সাথে সাক্ষাত করেন পাশপাশি মন্দির পুনঃনির্মানের দাবি জানান

গত ৩ ডিসেম্বর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এড. বিকাশ রায় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের সাথে সাক্ষাত করেন পাশপাশি মন্দির পুনঃনির্মানের দাবি জানান। বিনা নোটিশে উচ্ছেদ এমন অভিযানকে হিন্দু স¤প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ মেনে নিতে পারছে না। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামীতে হিন্দু স¤প্রদায়ের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন বৃহত্তম আন্দোলনে যাবে বলে জানান তারা।

আজ সোমবার দুপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষেদের সভাপতি এড. বিকাশ রায়, পুজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা, সাধারন সম্পাদক রবেট চক্রবর্ত্তী, বিজয় সিংহ দূরদূরিয়া শিব, দূর্গা মন্দিরের সভাপতি চন্দন কুমার পাল, সাধারন সম্পাদক রতন পন্ডিত, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রদীপ মোহন পাল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র পাল, সুজিত বর্মন, সজল চন্দ্র দেব প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নেতৃবৃন্দরা আরো জানান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জায়গাটা জেলা পরিষদের না হলেও তিনি মন্দিরটি ভাঁঙ্গবেন। এটা খুব খারাপ বিষয়।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ম্যাজিষ্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মন্দির ভাঙ্গার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। ঘটনাটি দুঃখজনক। মন্দির থেকে যে মুর্তিটি বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে, তা রঘুনাথজি আখড়ায় সাময়িক ভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মন্তব্য করুন