বাংলাদেশে বিচার পাওয়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়

0
1470

এ দেশে বিচার পাওয়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়। মামলা দায়ের, তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, অভিযোগ গঠন—প্রতি ধাপে প্রচুর বাধা।

এসব অতিক্রম করেই এগোতে হয় বিচারপ্রার্থীদের। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর আবার বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হয়। আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার এ অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবহিত। দিয়াজ হত্যা মামলার ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। গত বছরের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। প্রথমে বলা হয়েছিল তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের আপত্তির কারণে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিআইডি জানিয়েছিল, দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর বছর গড়িয়ে গেলেও দিয়াজ হত্যা মামলার অগ্রগতি বলতে গেলে নেই।
ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আর্জি জানাতে কখনো মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, কখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, কখনো প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। নিরুপায় হয়ে গত সোমবার আমরণ অনশন শুরু করেছেন তিনি। অনশনরত অবস্থায়ই পুলিশ কর্মকর্তাদের দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছেন তিনি। তাঁর জন্য এটি যুদ্ধ; বিচার পাওয়ার যুদ্ধ। তাঁর অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু তিনি অনড়। পরিবারের লোকজন চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারও চেষ্টা করেছেন অনশন ভাঙাতে, তিনিও পারেননি। তাঁর সোজা কথা, একজন আসামিও যদি গ্রেপ্তার না হয় তিনি মুখে খাবার তুলবেন না। এজাহারভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে একজনকে হলেও গ্রেপ্তার করা হোক।

সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে, বঙ্গবন্ধু চত্বরে ও শহীদ মিনারে ব্যানার নিয়ে বসে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান জাহেদা আমিন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়, চট্টগ্রাম জেলার এসপির কার্যালয় ও হাটহাজারী মডেল থানা ঘুরে বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে বসতে। আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় কতটুকু আস্থাহীনতা তৈরি হলে মানুষ এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

জাহেদা আমিনের অভিযোগ, হাটহাজারী থানার ওসি নানা অজুহাত দেখান, নানাজনের দোহাই দেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু তিনি তাদের ধরেন না। এমন দশা শুধু তাঁর নয়, এ দেশের আরো অনেক বিচারপ্রার্থীর অবস্থা একই। তাদের অসহায়ত্ব, দুর্দশার অবসান কবে হবে? চট্টগ্রামের এসপি তাঁকে ভরসা দিয়েছেন, ভালো কথা। কিন্তু এটুকু ‘সেবা’ দিলেই চলবে! আসামিদের আদালতে হাজির করার প্রয়োজন নেই! আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা বিচারপ্রক্রিয়ায় মানুষের আস্থা ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

মন্তব্য করুন