ঝিরি-ঝরনা পাথর উত্তোলনের রাজা উজ্জল ধর

0
1738
 নুসিং থোয়াই মার্মা (বান্দরবান প্রতিনিধি)
বান্দরবানে ঝিড়ি-ঝরনা খালে সর্বত্রই চলছে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন। স্থানীয়রা আশঙ্কা করেছেন- অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকায় জেলার দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে শীতের মৌসুমে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন বান্দরবান  জেলার রুমা উপজেলায় ক্যোওয়াইবওয়া পাড়া এলাকা থেকে শুরু করে পুনর্বাসন পাড়া, ভাগ্যমনি পাড়া, বগামুখ পাড়া পর্যন্ত রুমা খালের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে  ছয়টি পয়েন্টে চলছে ঝিরি থেকে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলনের কাজ। অধিকাংশ পাহাড়ে মানুষের খাবার পানির অন্যতম প্রধান উৎস ঝিরি-ঝরনা, খাল ও নদী।
এসব জায়গার পানি পান করে তারা জীবনধারণ করেন। প্রতি বছর শীতকালে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র পানি সংকটে পড়তে হয়। এসব খাল থেকে পাথর উত্তোলন করায় শীত আসার  আগেই শুকিয়ে যায় ঝিরি-ঝরনা আর খালের পানি। নদীর তীরবর্তী মানুষের পানির কষ্ট দ্বিগুণ হয়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা চিন্তা করে পাহাড়ি মানুষের পানিকষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে পাথর উত্তোলনের ওপর প্রশাসনের রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। সম্প্রতি রুমা উপজেলার পাহাড়ি ঝিরি ঝরনা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান। তিনি পাথর উত্তোলনের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেন নয়জন পাথর শ্রমিককে।
তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেয়া হয়েছে। এরপরও থেমেনি পাথর উত্তোলন কারবার। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলার রুমা, লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি এবং থানচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল, পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা থেকে অবৈধভাবে বোল্ডার পাথর উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশও। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজ নেতারা বলছেন, প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন করায়  উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। উন্নয়নকাজে ব্যবহারের নামে বেশ কিছু দিন ধরে চলছে পাথর উত্তোলনের কাজ। রুমা উপজেলা বাজারের স্বর্ণকার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা নামধারী জনৈক উজ্জ্বল ধর এবং ইমরান সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যবহারের নামে গত বছর থেকে অবৈধভাবে রুমা খাল থেকে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছেন। পাথর উত্তোলনের জন্য  বুলডোজার ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে রাস্তাও নির্মাণ করেছে অসাধু ব্যবসায়ী রা ।
স্থানীয় বাসিন্দা চিংসাথোয়াই মারমা, রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈবং মার্মা বলেন, উন্নয়নকাজের নামে দীর্ঘদিন ধরে বাজার কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল ধর রুমা খাল থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। লামার পৌরসভার কাউন্সিলর আবু সালাম, চকরিয়ার হুমায়ুন, আলীকদমের রেফারপাড়া আবাসিক এলাকা জাহিদ মিস্ত্রি, কবির মিস্ত্রি, রোকন উদ্দীন মাস্টার, সুজিত দাশ সোহাগ, আবুল কালাম, রোয়াংছড়ির, বশর ড্রাইভার ও সদরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের পরিছয়দানকারী হাফেজঘোনার কামাল উদ্দীন খাল ও পাহাড়ি ঝিরি থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন ও পাচারকাজ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন পাথর খেকো রুমা বাজার কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল ধর। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পারিবারিক কাজে চকরিয়ায় একটু ব্যস্ত আছেন বলে জানান। তিনি পাথর উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে যান। পাথর উত্তোলন তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যবসায়ী মো. ইমরান বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে রুমা খাল থেকে চল্লিশ হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। রুমার পলি মৌজা হেডম্যান চিংসাঅং মারমা বলেন, পাথর উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সাংবাদিকদের বলেন, পাথর উত্তোলন করলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই কেউ যদি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, রুমাতে পাথর উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন