সিআইডির মুখোমুখি তনুর পরিবার

0
1149

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ড এখনো ক্লুলেস। হত্যার মোটিভও পরিষ্কার নয়। পুলিশসহ একাধিক সংস্থা এ নিয়ে কাজ করলেও কুলকিনারা হচ্ছে না। ২০ মাসেও শনাক্ত হয়নি খুনি। একাধিক ‘সন্দেহ’ সামনে রেখে কাজ করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে তনুর পরিবারকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরে তলব করা হয়। সকাল ১০টার পর থেকে ওই পরিবারের পাঁচ সদস্য পৃথকভাবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। দিনভর এমনকি সন্ধ্যার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তারা তদন্তে সহায়ক বক্তব্য রাখেন।

সিআইডি সূত্র মতে, মামলার বাদি ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেনের বক্তব্য শোনেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এর সূত্র ধরে নতুন করে কাজ শুরু করেছে সিআইডি।

আলোচিত তনু হত্যা মামলা তদারকি করছেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহহার আকন্দ। গতকাল সন্ধ্যার পর তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, তনুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তদন্তে সহায়ক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে আবারো কথা বলা হবে।

তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তনুর পুরো পরিবারকে ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে ডাকা হয়েছে। সেখানে তদন্তের সঙ্গে জড়িত সিআইডির টিমের সদস্যরা ছিলেন। তনুর মা ও অন্যদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। সেই আলোকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম সন্ধ্যার পর বলেন, সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। সবার শেষে ডাকা হয়েছে তাকে। তারা একটি বাহিনীর সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে আইনের আওতায় আনা হলে এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে জানিয়েছেন। ওই দম্পতি এখন ঢাকায় আছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর পাওয়ার হাউস এলাকায় কালভার্টের পাশের ঝোপ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। কারা, কী কারণে তনুকে খুন করেছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তনু হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে যে তিনজনের নাম তার মা সিআইডিকে বলেছিলেন, গত ২৪ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন ঢাকা সেনানিবাসে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২০ নভেম্বর তনুর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে তদন্তের স্বার্থে বক্তব্য দেয়ার জন্য মামলার বাদি ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও চাচাভাই মিনহাজ হোসেনকে বলা হয়

মন্তব্য করুন