টিটু চন্দ্র রায় পক্ষে সাত আইনজীবী

0
669

রংপুর: নবী (স.) কে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার রংপুরের ঠাকুরপাড়ার টিটু চন্দ্র রায় অবশেষে তার পক্ষে আইনজীবীও পেয়েছেন। স্থানীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাত আইনজীবী আদালতে টিটুর পক্ষে লড়াই শুরু করেছেন।

সোমবার তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে কাজ শুরু করেন স্থানীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাত আইনজীবী। তারা হলেন—অ্যাডভোকেট কমল মজুমদার, ইন্দ্রজিত সরকার, বিনয় ভূষণ রায়, নরেন্দ্র সরকার, মাশরাফি মো. শিবলী, রিয়াজুল আবেদীন লিটন ও জাকির হোসেন।

রংপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, টিটু রায়ের পরিবার অত্যন্ত গরিব। তারা টিটুর পক্ষে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেনি। আদালতের মাধ্যমে পুলিশ দু’দফা রিমান্ডে নিলেও টিটু রায়ের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিল না। তাই রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে তাকে আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য সাতজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গত শনিবার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দ্বিতীয় দফায় টিটু রায়কে চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এর আগে তাকে প্রথম দফায় চারদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ১৪ নভেম্বর ভোরে ডিবি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা গ্রাম থেকে টিটুকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, টিটু রায় ফেসবুকে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার প্রতিবাদে গত ১০ নভেম্বর স্থানীয় মুসল্লিরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় টিটুকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রংপুর-ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

অপরদিকে, ওইদিন রংপুরের সদর উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দুদের ১১টি বাড়িতে আগুন ও ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ২ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়। এরই মধ্যে এলাকার প্রায় দেড়শ মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সাথে ঘটনার নেপথ্যের মূল হোতা টিটুকেও গত সোমবার রাতে নীলফামারী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন