নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া সনদে নিয়োগের অভিযোগ

0
894

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া সনদ ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে বিভাগের প্রধান পর‌্যন্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে হাইকোর্টে  রিট ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে অভিযোগ করেছেন প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদনকারী এক প্রার্থী।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ চালু হওয়ার পর একটি জাতীয় দৈনিকে একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য বাধ্যতামূলক তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ বিএফএ স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়।

প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পৃথক দুটি পদে আবেদনকারী ভুক্তভোগী প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বিজ্ঞাপনের সব শর্ত পূরণ করে বাছাই বোর্ডে অংশ নেন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তির অন্যতম শর্ত তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জাল সনদে সাফিন ওমরকে বোর্ড মনোনীত করে বলে নিয়োগ দেয় বলে পরে অভিযোগ করেন ফারুক।

জাল সনদে নিয়োগের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক। এরপর অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে স্বেচ্ছায় অবসরে যান সাফিন ওমর।

পরবর্তী সময়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আগের মতো তিন বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দুলালচন্দ্র গাইন নামের একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলায় চারুকলা বিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন তিনিও।

চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও  প্রভাষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএ স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করতে বলা হলেও ছাপচিত্র বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান বিএফএ পাসকোর্স শিক্ষার্থী নগরবাসী বর্মণ। নিয়োগ শর্ত অনুযায়ী তার ইন্টারভিউ কার্ডই পাওয়ার কথা নয়। অথচ সে সময় নিয়োগ পাওয়া নগরবাসী বর্মণ বর্তমানে চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের তাদের পদে থাকার কোনো এখতিয়ার নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে তারা সরকারের যে টাকা আত্মসাৎ করছেন, তা ফেরত দিতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দুলালচন্দ্র গাইন যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। কোনো প্রকার ত্রুটি থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকা টাইমস

মন্তব্য করুন