স্কুলের এতটুকু ছেলের হাতে অস্ত্র!

0
902

 

আগ্রাবাদ সিডিএস্থ হাতেখড়ি স্কুলের সামনে ভয়ংকর দেশিয় অস্ত্রহাতেই গিয়েছিল দুই কিশোর। উদ্দেশ্য স্কুলের ভেতরে থাকা জেএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুর হয়ে ওই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থীকে শায়েস্তা করা। কিন্তু জনতা দুজনকে পাকড়াও করে ডবলমুরিং থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানায়, এসএস পাইপ দিয়ে তৈরি ধারালো যে কুড়াল দুই কিশোরের কাছে পাওয়া গেছে তা দিয়ে কাউকে একবার কোপ দিতে পারলেই নিশ্চিত মৃত্যু। বড় ধরণের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যেই দুই কিশোর স্কুলের সামনে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এতটুকু ছেলেদের হাতে নিজেদের তৈরি ভয়ংকর এসব অস্ত্র যে কাউকেই ভাবিয়ে তুলবে। এত সাহসের উৎস কী সেটা অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদে হাতেখড়ি স্কুলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক দুজন হলেন, আব্দুল মান্নান (১৫) ও আরিফ হোসেন (১৪)। এদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এবং আরিফ আগ্রাবাদে একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জানান, আগ্রাবাদ মিস্ত্রিপাড়া এলাকার একটি স্কুল থেকে এবারের জেএসসি পরীক্ষার্থী সাকিব তার বন্ধু মান্নান ও আরিফকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাতেখড়ি স্কুলের সামনে প্রস্তুত থাকতে বলেছিল। ওই স্কুলেই ছিল সাকিবের পরীক্ষাকেন্দ্র। সাকিবের সঙ্গে সম্ভবত কারো বিরোধ আছে। তবে বিরোধটা ঠিক কার ছিল তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাদের পরিকল্পনা ছিল পরীক্ষা শেষে মারামারি করবে। তারা যে অস্ত্র এনেছিল তা দেখে মনে হচ্ছে কাউকে খুন করারও সম্ভাবনা ছিল। স্থানীয় লোকজন হাতে ব্যাগ দেখে সন্দেহবশত মান্নান ও আরিফকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে সাকিব পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পালিয়ে গেছে।

উদ্ধার করা অস্ত্র সম্পর্কে ওসি জানান, তাদের কাছ থেকে এসএস পাইপ দিয়ে তৈরি একটি ধারালো কুড়াল, এস এস পাইপের মাথায় লোহার তিনটি হুক বসিয়ে তৈরি বিশেষ অস্ত্র, ১টি ছোরা ও ১টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে। যে কুড়াল পাওয়া গেছে সেটি দিয়ে কাউকে একবার কোপ দিলে নিশ্চিত মৃত্যু। আর লোহার হুকের অস্ত্রটি আরো বিপজ্জনক। এটি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মৃত্যু অবধারিত।

আরিফ ও মান্নান অস্ত্রগুলো কোথায় পেয়েছে, সেগুলো কোথায় তৈরি হয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি। এছাড়া অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওসি। এদিকে এ ধরনের অস্ত্রসস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সবার সামনে চলে এসেছে। একটি হচ্ছে, নিজেদের হাতে বানানো এসব অস্ত্র কোথায় এবং কার তত্বাবধানে তৈরি হয়েছে। তাদের গডফাদার কিংবা গোড়ার মানুষটি কে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, সপ্তম অষ্টম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থী কার হাত ধরে অস্ত্রের জগতে এসেছে? এসব অস্ত্রের সাথে মাদক ব্যবসার সংযোগ আছে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর হাজির করার দায়িত্ব সম্পর্কে স্থানীয় একজন বলেন, অবশ্যই পুলিশের।

মন্তব্য করুন