যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতণের অভিযোগ

0
1270

 

ভালুকায় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মাহফুজা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে স্বামী ও সতীন কর্তৃক নির্যাতণের পর এক বছরের শিশুপুত্রসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলে স্বামী আব্দুর রশিদকে (৩৫) আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ নভেম্বর উপজেলার হবিরবাড়ি গ্রামে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি গ্রামের আবু সাইদের ছেলে আব্দুর রশিদের সাথে ১৮ বছর আগে ভালুকা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাঠালী গ্রামের আব্দুল গফুর পাঠানের মেয়ে মাহফুজা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে মবিন (১৪), মারুফ (৮) ও মাফি (১) নামে তিনটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

নির্যাতণের শিকার মাহফুজা আক্তার  জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে প্রায়ই নির্যাতণ করে আসছিল। আমার সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে আমার পিতা স্বামীকে নগদ তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার স্বামী ওই টাকা খরচ করে আবারো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে থাকে এবং এনিয়ে আবারো আমার উপর চলে নির্যাতণ। ইতোমধ্যে আমাদের সংসারে তিনটি ছেলে সন্তান জন্ম লাভ করলেও আমার উপর নির্যাতন চলতেই থাকে টাকার জন্য। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয়ভবে শালিস বৈঠকও বসে কিন্তু কোন ফয়সালা হয়নি।

তিনি আরো জানান, এক বছর আগে আমার স্বামী আমার অজান্তে ফহিমা (৩০) নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে এবং সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকে। ১১ নভেম্বর আমার স্বামী আব্দুর রশিদ তার দ্বিতীয় স্্রী ফাহিমাকে নিয়ে আমার ঘরে আসে এবং যৌতুকের টাকা দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার সাথে স্বামীর কথা কাটাকাটি হয়। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমারকে এলাপাথারী কিলঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা আমার বাম চোখে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে চোখ নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় আমার ডাকচিৎকারে আশ পাশের লোকজন চলে আসতে থাকলে তারা শিশু সন্তান মাফিসহ আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং হুমকী দেয় যে, দাবিকৃত টাকা না দিলে আমাকে তালাক দিবে। এমনকি খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। পরে খবর পেয়ে আমার ভাই আব্দুল কাইয়ূম আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, এ ঘটনায় নির্যাতণের শিকার গৃহবধূর স্বামী আব্দুর রশিদকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

মন্তব্য করুন