কারাগার থেকে অর্থ ছাড়া মুক্তি মেলে না

0
862

 

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে জামিন বা মুক্তি মেললেও, মুক্তি মেলে না কারাগার থেকে। কারাবন্দীদের নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের অর্থ আদায় করে তবেই কারাগার থেকে ছাড়া হয় আসামিদের।

জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। যারা নিজেরাও এ ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এমন ঘটনায় শিকার জামিনপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, যার কাছ থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু আদায় করে তবেই ছাড়া হয় কারাগার থেকে। আর কে বা চায় জামিন পাবার পর মুক্তির শেষ পর্যায়ে এসে আবারো ঝামেলায় পড়তে। একাধিক জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি এমন অভিযোগ করেছেন ।

ভুক্তভুগীরা জানিয়েছেন, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলে এই কারাগারে শুরু হয় মুক্তি নিয়ে গড়িমসি। আজকে জামিন পেলেও টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়, বলা হয় কালকে সকালে আপনার মুক্তি হবে। আবার বলা হয়, বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার লোক রয়েছে, ডিএসবি রয়েছে যদি টাকা না দেন এখান থেকে বের হলে অন্য মামলায় আবারো আপনাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। এ ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে যার কাছ থেকে যেমন সম্ভব তেমন অর্থ আদায় করে চলেছে জেল নিরাপত্তাকর্মীরা।

সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়া একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রোবেল শীর্ষনিউজকে বলেন, আমাকে একটি মামলায় সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়। কিন্তু পরে আমি আদালত থেকে মুক্তি পাই। আদালত থেকে মুক্তির কাগজ আসার পরও আমার মুক্তি দেয়া নিয়ে কারাগারে গড়িমসি শুরু হয়। এখান থেকে নানাভাবে বলা হয় বাইরে গেলে আমাকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে, আটক করা হবে। পরে আমার কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা দিলে আমার মুক্তি মেলে। এ রকম অবস্থা সকলের ক্ষেত্রেই।

রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলা, ডাকাতি, চুরিসহ সকল মামলায়ই এমন কার্যক্রম করা হয় বলে জানান ভুক্তভুগীরা।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, প্রশাসনকে অবহিতকরণের একটি নিয়ম চালু রয়েছে কারাগারে। সেখানে একজন মানুষের জামিন হলে সে কাগজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন তারা আর এতে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক সেখানে গেলে তাদের দেখিয়েই বন্দীদের অনেকটা জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের অর্থ আদায় করে পরে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। বড় বড় অংকের অর্থ আদায়েরও অনেক অভিযোগ রয়েছে, টাকা না থাকলে বাড়ি থেকে টাকা আনাতে বলা হয় আসামিদের।
তিনি আরো জানান , যারা আটক বা গ্রেফতার হন সকলেই কিন্তু অপরাধী নয়। আর অপরাধীদের জন্য আদালত রয়েছে। এভাবে জিম্মি করে অর্থ আদায় করাটা অনেকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের অবস্থা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কারণ জামিন হবার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেতে বাধা দেয়ার অধিকার বা তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অধিকার কোন প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরই নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাস কুমার ঘোষ শীর্ষনিউজকে বলেন, আমি পরিষ্কারভাবেই বলতে চাই- এ রকম কোনো কর্মকাণ্ড করার কোনো সুযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নেই। এখানের সকল সদস্যরাই একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য। তবুও যদি কারো তথ্য প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে এবং আমাদের জানায় তাহলে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি জানান, বাইরের কিছু চক্র এ রকম কাজ করে থাকতে পারে। কিছুদিন আগে আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের এক আসামিকে অসুস্থ বলে তার বাড়ি থেকে বিকাশে টাকা আনিয়েছে বাইরের একটি চক্র। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নয়।

মন্তব্য করুন