এক মহিলা মেম্বার ধর্ষিত!

0
703

পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেলের (৪০) বিরুদ্ধে একজন মহিলা মেম্বার ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে বাদীকে পরিবারসহ খুন, গুম ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে বাদী আদালতে আরো একটি মামলা করেছেন। এরপরও হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে ভিকটিম জানিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান ধর্ষণের ঘটনা সাজানো বলে মন্তব্য করেছেন। হুমকির অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ দেয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল তার বন্ধু তোতা পাঠানকে (৫৫) দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে মহিলা মেম্বারকে তার বাড়ি থেকে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এরপর পাশের কম্পিউটার কক্ষে বসে প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তোতা পাঠান প্রস্রাবের কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এসময় চেয়ারম্যান রুবেল কোমর থেকে ডেগার বের করে খুন করার ভয় দেখিয়ে মহিলা মেম্বারকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর মেম্বারকে ছেড়ে দিলে তিনি বাইরের মাঠে গিয়ে তার স্বামীকে পেয়ে ঘটনা জানান। তারা বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের জানিয়ে পরদিন সকাল ৯টায় পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ট্রাইবুনালে মামলা করতে গেলে জজ না থাকায় ১৩ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল ও তোতা পাঠানকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত থেকে থানাকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দিলে থানা ১৮ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হলেও পরীক্ষার ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

মামলা দায়েরের পর থেকেই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বাদী ও তার পরিবারকে বাড়িতে গিয়ে মটরসাইকেল মহড়াসহ খুন, গুম ও বাড়িঘর পুড়িযে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে বাদী অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান রুবেল ও তোতা পাঠানসহ ৯ জনকে আসামী ১ নভেম্বর আদালতে ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় আরো একটি মামলা করেছেন। মহিলা মেম্বার তার পরিবার পরিজন নিয়ে এখন আতঙ্কে আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাজে তিনি বাড়ি থেকে বেরুতে পারছেন না বলে মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেছেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেলকে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন করলে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মামলাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন। চেয়াম্যান জানান, মান্দারকান্দি গ্রামের সিরাজউদ্দিন নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভাতা মঞ্জুরের ব্যাপারে তার কাছ থেকে ওই মহিলা মেম্বার ৭ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেছি বলেই এ ধরনের বানোয়াট কাহিনী সাজিয়েছেন। ভিকটিমকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি জানান। তবে ভিকটিম ৭ হাজার টাকার অভিযোগ সাজানো বলে দাবি করেছেন।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. সামছুদ্দিনকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে জানান, চেয়ারম্যান হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। যে কারণে এখন গ্রেফতারের কোন সুযোগ নেই। তবে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে ওসি জানান, এ ব্যাপারে ভিকটিমকে তিনি আদালতে ৭ ধারার মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন