স্ত্রীর গলাটিপে হত্যা আড়াই মাস পর স্বামী গ্রেফতার রহস্য উৎঘাটন

0
1027

স্ত্রীর গলাটিপে হত্যার আড়াই মাস পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে হত্যাকান্ডে নিজের দায় স্বীকার করেছে ইমাম মোফাচ্ছেল খান। তাকে ৪ নভেম্বর শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বিকারোক্তি প্রদান করছেন তিনি।

জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ওটী গ্রামের স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুল আলী খানের ছেলে মোফাচ্ছেল খান স্থানীয় মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রায় দশ বছর আগে প্রতিবেশী চাচাত বোন আসমা খাতুনকে বিয়ে করে ঘরে তুলেন। দাম্পত্য জীবনে দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

এদিকে গত ২৪ আগস্ট রাতে স্টার জলসার পাখি ড্রেস অথবা নতুন কাপড়েরর জন্য জেদ ধরে স্ত্রী আসমা। এ নিয়ে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি আবার রাতেই শান্তিচুক্তি হয়। রাত তিনটার দিকে আবারো পুরাতন কাসুন্দী নিয়ে কথা কাটাকাটির পরও স্ত্রী ফরজ গোসল করতে গেলে স্বামী ইমাম মোফাচ্ছেল খান তার পিছু পিছু যায়। সেখানেও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইমাম মোফাচ্ছে রাগে ক্ষোভে স্ত্রী আমসাকে গলা চেপে ধরে। এতে স্ত্রী আসমা কোন সাড়া শব্দ না করলে তাকে ধাক্কা মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে চলে যায়।

সকালে পরিবারের লোকজন খোজাখুজি করে আসমাকে না পেয়ে তার স্বামীকে সংবাদ দেয়। স্বামী ইমাম মোফাচ্ছেল খোজাখুজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে স্ত্রী আসমার লাশ উত্তোলন করে এবং পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে বলে প্রচার করে।

অপরদিকে পুলিশ সংবাদ পেয়ে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে । আসমার পিতা হালুয়াঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ আড়াই মাস আসামীরা পলাতক থাকায় এবং কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের উপর ন্যাস্ত করে জেলা পুলিশ। ডিবি পুলিশের এলআইসি বিভাগের এসআই পরিমল দাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আড়াই মাস পর হত্যাকান্ডের অন্যতম হোতা ইমাম মোফাচ্ছেল খানকে গ্রেফতার করে।

ডিবির ওসি মোঃ মোঃ আশিকুর রহমান জানান, গত ৪ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বিকার করেছেন।

তিনি আরো জানান, আসামী ইমাম মোফাচ্ছেল খানকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।

মন্তব্য করুন