হালুয়াঘাটে ঐতিহাসিক তেলীখালী যুদ্ধ দিবস উদযাপন

0
965

হালুয়াঘাটঃ ৩ নভেম্বর শুক্রবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে হালুয়াঘাটের তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্ত্বরে ঐতিহাসিক তেলীখালী যুদ্ধ দিবস উদযাপিত হয়েছে।

কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মহান শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল, ঐতিহাসিক তেলিখালী দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক স্মৃতিচারণ সভা, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সঙ্গীতানুষ্ঠান, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী। হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কমান্ডার কবিরুল ইসলাম বেগ, সাবেক জেলা কমান্ডার আঃ রব ও সেলিম সাজ্জাদ, হালুয়াঘাট সার্কেলের এ এস পি আলমগীর পিপিএম, জেলা পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক সায়েম, ওসি মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া, অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার আঃ গণি প্রমুখ।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর সেদিন হালুয়াঘাটের সীমান্ত অঞ্চলে তেলিখালী ছিল পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছিলো এই ঘাঁটি মুক্ত করার। যার ফলে সেদিন মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম এবং মিত্র বাহিনীর কমান্ডার কর্নেল রঘুবন সিং এর যৌথ নেতৃত্বে এক ব্যাটেলিয়ান যোদ্ধার অংশগ্রহণে ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর এক ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আর

এই যুদ্ধে ১২৪ জন পাকসেনা, ৮৫ জন রাজাকার ও ২৫ জন রেঞ্জার(সর্বমোট ২৩৪ জন) প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং একজন পাকসেনা ও দুইজন রাজাকার আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অনেক অস্ত্র-স্বস্ত্র ও গোলাবারুদ মিত্র বাহিনীর হস্তগত হয়েছিলো। পক্ষান্তরে যৌথ বাহিনীর পক্ষে ৩০ জন অকুতোভয় বীর সৈনিক শাহাদৎ বরণ করেন ও প্রায় ৫০ জন আহত হন। যৌথ বাহিনীর অনেক কম ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যদিয়ে এ যুদ্ধে সম্পূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়।

একজন শত্রু সৈন্যও পালিয়ে যেতে পারেনি বা একটি লাশও নিয়ে যেতে পারেনি। যে কারণে পাকবাহিনীর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। তাদের রক্ষণভাগ ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক বিজয় অর্জন করতে থাকে এবং পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা পরাজয় বরণ করতে থাকে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে তেলিখালী সর্বপ্রথম স্বাধীন হয়। ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ বিজয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গর্ব ও অহংকার। সেই যুদ্ধে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন সরিষাবাড়ির শওকত আলী,হালুয়াঘাটের মো. আক্তার হোসেন, ফুলপুরের মো. হযরত আলী, ময়মনসিংহ সদরের মো. আলাউদ্দিন, মো. শাহজাহান, শ্রী রঞ্জিত গুপ্ত, নোয়াখালীর মো. ওয়াজি উল্লাহ সহ ২৮ জন বীর সেনা।

মন্তব্য করুন