ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা

0
231
শান্তি ওনিরাপত্তার জন্য তারুণ্যের শক্তি ব্যবহার” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ রেঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১ পালিত” হয়েছে। এ উপলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের আয়োজনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু। অনুষ্ঠানে এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান, ৭৭ ব্রিগেডের স্টেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমূল হক (এএএফডব্লিউসি, পিএসসি), অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি ডঃ আক্কাস উদ্দিন ভুইয়া। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগত ভাবেই শান্তি প্রিয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে কাজ শুরু করে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনী জীবন উৎসর্গ করে এদেশের মুখ শুধু উজ্জলই করেনি, সফল করেছে সকল শান্তি প্রিয় রাষ্ট্রের সম্বিলিত প্রচেষ্টাকে।
সভায় রেঞ্জ ডিআইজি তার বক্তব্যে বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশ পুলিশের কাজে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সফল ও সুনামের সাথে কাজ করছে তার কারন হল তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সকল ধর্ম-বর্ণ ও নারী-পুরুষের প্রতি সংবেদনশীল ও শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করা। যা শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হন। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে তার ভাষনে মানবের অসাধ্য সাধন, দুরহ বাধা অতিক্রমের অদম্য শক্তির প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা বলে ঘোষণা দেন। এর পর থেকে জাতি সংঘ শান্তিরী মিশনে বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেবাবাহিনী ইরাকে ১৫ সদস্যের একটি সামরিক পর্যবেক দল পাঠিয়ে শান্তিরী মিশনে যুক্ত হন। এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালে জাতিসংঘের সদস্য হয়। নৌ ও বিমান বাহিনী ১৯৯৩ সালে যুক্ত হয়।
তিনি আরো বলেন, শান্তিরী মিশনে নিজেদের দতা ও মেধা খাটিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তি রীমিশনে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৯ জন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯০, নৌবাহিনীর ৬ হাজার ১২ জন, বিমাবাহিনীর ৭ হাজার ৫৫১ জন এবং বাংলাদেশ পুলিশের ২০ হাজার ৩১৬ জন অংশ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে নারী সদস্য রয়েছে ২ হাজার ৩৪ জন। ডিআইজি আরো বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের অধীন শান্তিরী মিশনে ১০টি দেশে ৬ হাজার ৭৪২জন দায়িত্বরত রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ৫ হাজার ৩০৮জন, নৌবাহিনী ৩৪৫, বিমান বাহিনী ৫৮৮জন এবং পুলিশ বাহিনী ৫০১জন। এখন পর্যন্ত ২০৩৪ নারী সদস্য মিশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সিনাবাহিনী ৪২৯, নৌবাহিনী ২২জন, বিমানবাহিনী ১১০ জন এবং পুলিশ বাহিনী এক হাজার ৪৭৩জন। এছাড়া বর্তমানে ২৮৪ জন মিশনে রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১১৯, নৌবাহিনী ৫ জন, িিবমান বাহিনী ১০ জন এবং পুলিশ বাহিনী ১৫০জন। শান্তি রী মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৫৯ জন শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৪০ জন। এর মধ্যে পুলিম বাহিনীর ২২জন শহীদ এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
ডিআইজি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধ ও বিরত্তগাথা ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাংলাদেশ পুলিশ। দেশে শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্ত, আইন শৃংখলা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মানবিকতা, গণতন্ত্র রায় পুলিশের পেশাদার, দেশপ্রেমিক ও নিষ্ঠাবান সদস্যগণ উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী। এর আগে অতিরিক্ত ডিআইজি ডঃ আক্কাস উদ্দিন ভুঞা স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে স্থায়ী শান্তির পথ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তারুণ্যের শক্তি ব্যবহার” এই পতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের উদ্যোগে শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীর উদ্বোধন করেন রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ। অতিরিক্ত ডিআইজি ডঃ আক্কাস উদ্দিন ভুইয়া, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান, রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা প্রশাসক এনামুল হক রেঞ্জ কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকতা, সদস্যবৃন্দ, সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। র‌্যালীটি রেঞ্জ কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

মন্তব্য করুন