মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে তারাই আজ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে- জহিরুল হক খোকা

0
353
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য় ভাঙ্গার প্রতিবাদে ভাস্কর্য় বিরোধী অপতৎপরতার বিরোদ্ধে এবং জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ এর উদ্যোগে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল।
আজ ৯ই ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহের রেলওয়ে কৃষ্ণচুড়া চত্বরে প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আলহাজ¦ জহিরুল হক খোকা‘র সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর সার্বিক পরিচালনায় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের হাজার হাজার জনতা অংশ গ্রহন করেন।
প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা বলেন, করোনাকালে একটি কুচক্রি মহল স্বাধীনতার স্বপ্নকে ধুলিসাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ওরা আর কেউ নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বিরোধীতা করে স্বাধীনতাকামী মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। মুক্তিযদ্ধের পরাজিত শক্ররা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। শেখ মুজিবুর রহমান তার সারাটা জীবন এই বাংলাদেশের মানুষের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস,ঐতিহ্য কথা বলে। যারা আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আঙ্গুল গুলো ভেঙ্গেছেন আমরা তাদের গুড়িয়ে দিবো। সবাইকে আবার সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বসবাস করতে হলে জাতীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে মেনেই বসবাস করতে হবে। অন্যথায় পাকিস্তান চলে চান। ভাস্কর্য হলো, একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির নিদর্শন। বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মিশরে ইব্রাহিম পাশা, তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্যসহ ইরাক, ইরান, সিরিয়া নানা ঐতিহ্যের ভাস্কর্য রয়েছে।
জেলা আওয়ামীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস ও শওকত জাহান মুকুলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল,সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদেক খান মিল্কী টজু, এডভোকেট পিযুষ কান্তি সরকার, মহিলা আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ফারুক আহমেদ খান, এডভোকেট বদর আহমেদ,ডঃ সামিউল আলম লিটন, শাহ শওকত ওসমান লিটন প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অবমাননাকারী মামুনুল ও বাবুনগরীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেন।
পরে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে গাঙ্গিনার পাড়, নতুন বাজার ও জেলা স্কুল মোড় হয়ে টাউনহল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সমাবেশে জেলার বিভিন্ন থানা ও মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে যোগদান করেন।

মন্তব্য করুন