১ পুলিশ ও সেনা সদস্যকে ফেন্সিডিল দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

0
564

সাতক্ষীরার ভোমরায় বিজিবির বিরুদ্ধে এক পুলিশ ও সেনা সদস্যের মোটরসাইকেলে ফেন্সিডিল দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সদস্য ইনজামামুল হক(২৫) ও সেনা সদস্য রাজু প্রারামাণিককে (২৬) শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ভোমরা স্থল বন্দরের জাহাঙ্গীর মার্কেট থেকে বিজিবি ক্যাম্পে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদেরকে মারপিট করে মোটর সাইকেলের সিটের নিচে ফেনসিডিল রেখে জানান দেওয়া হয়, তাদের কাছে ফেন্সিডিল পাওয়া গেছে। শুক্রবার দিন-ভোর তাদের বিওপি ক্যাম্পে আটক রাখার পর সন্ধ্যায় পুলিশ ও বিজিবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্ততায় ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশ সদস্য ইনজামামুল হক সদর উপজেলার গয়েসপুর গ্রামের সাহেব আলী মোড়লের ছেলে। তিনি খুলনার তেরখাদা থানায় কর্মরত আছেন। অপরদিকে, সেনা সদস্য রাজু প্রারমানিক একই উপজেলার পদ্মশাখরা গ্রামের শ্যামল পরামানিকের ছেলে। তিনি কঙ্বাজারের রামুতে কর্মরত আছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তাদের কাছে ফেন্সিডিল পাওয়ার ঘটনা কল্পিত। তাদের কাছে ফেন্সিডিল পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দুই বন্ধু বাড়ির কাছে ভোমরা বন্দরে জাহাঙ্গীর মার্কেটের অদূরে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। এ সময় বিজিবির গোয়েন্দা সদস্য কাফি খান তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেন।

পুলিশ ও সেনা সদস্য নিজেদের পরিচয় দেয়ার পরও তাদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিজিবি সদস্যদের সহায়তায় তিনি তাদেরকে নিয়ে যান ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পে। ভোমরার বিজিবি সুবেদার আলি হায়দার বিষয়টির নিরসন না করেই উল্টো পুলিশ ও সেনা সদস্যকে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন পুলিশ সদস্য ইনজামামুল হক। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলের সিটের নিচে ফেনসিডিল রেখে বিজিবি প্রচার দেয় যে তাদের কাছে ফেনসিডিল পাওয়া গেছে।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হবার পর স্থানীয়রা বিজিবির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা নিরীহ সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্যের মুক্তি এবং বিজিবির কাফি খানের বিচার দাবি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক মেজর আমিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ। এ সময় সেনা সদস্য রাজুকে ভোমরা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আহত পুলিশ কনস্টেবল ইনজামামুল হককে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। রাতে তাকেও ছেড়ে দেয়া হয়।

আহত পুলিশ কনস্টেবল ইনজামাুল হক জানান, আমাদের কোনো দোষ নেই। ছুটিতে বাড়ি এসে আমরা দুই বন্ধু দাঁড়িয়ে ভোমরা স্থল বন্দর সংলগ্ন জাহাঙ্গির মার্কেটে গল্প করছিলাম। এ সময় বিজিবির গোয়েন্দা সদস্য আমাদের হয়রানি করেছে। আমরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তিনি তা মানেননি। উল্টো ক্যাম্পে নিয়ে মারপিট করেছেন। আমাদের মোটরসাইকেলের সিট উল্টে ফেনসিডিল রেখে আমাদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন জানান, বিষয়টি নিছক ভুল তথ্যভিত্তিক ও ভুল বুঝাবুঝি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যদি কেউ বাড়াবাড়ি করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

মন্তব্য করুন