ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউনিয়নের জনগনের ভাগ্যর কোন পরিবর্তন হয়না কেন?

0
2722

সরকার অাসে যায় কিন্তু ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জনগনের ভাগ্যর কোন পরিবর্তন হয়নি। একটি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো যোগাযোগ ব্যাবস্থা । অার এই সামান্য কথাটার অর্থ যেন ভুলে গেছে হতভাগা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার জনগন। ডিজিটাল সরকারের এনালগ এমপি মন্ত্রীর ভোটের আগে বারবার প্রতিশ্রতিতে কান জ্বালাপালা করে ফেলে জনগনের। কিন্তু ভোটও শেষ, জনপ্রতিনিধিদের দ্বায়িত্বও শেষ ।এটাই নিয়ম হয়ে গেছে, তাই বর্তমান বিভাগীয় জেলা সদর-৪ অাসনের ১৩টি ইউনিয়নের জনগনও যোগাযোগ ব্যাবস্থার বেহাল দশাকে নিজেদের নিয়তি হিসাবে মেনে নিয়েছেন।

ব্রম্মপুত্র নদের উত্তর পাশে চরাঞ্চলে ৫টি ইউনিয়ন, দক্ষিনে পাশে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা (থানা) গঠিত । বর্তমান অাওয়ামীলীগ সরকার টানা ২য় মেয়াদে সরকারে থাকাবস্থায় অার মাত্র ১ বছর বাকি। অর্থাত ৯ বছর যাবৎ সরকার পরিচালনা করছেন এই সরকার । অথচ অার্থসামাজিক, যোগাযোগ ব্যাবস্থা সহ দূর্শ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি ১৩টি ইউনিয়নে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর ৪ অাসনে নৌকার  প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রবীন অাওয়ামীলীগ নেতা অালহাজ্ব মতিউর রহমান।

পাঁচ বছর সরকারি দলের এমপি হয়েও নিজ এলাকা অাকুয়া ইউনিয়নের, অাকুয়া হাবুনব্যাপারীর মোড় হতে বাড়েরা ও বাড়েরা  হতে দাপুনিয়া প্রদান সড়ক দুইটি উন্নয়ন হয়নি। তার উপড় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কয়েকটি ইটবাটা ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে যাও পায়ে হেটে যাওয়া অাসা করা যেত তাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয় জনগন নিজেদের চলাচলের জন্য বাধ্য হয়ে ইট রাবিশ সুড়কি ফেলে চলাচল করতো বলে জানা যায়।ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের জনগণের জন্য কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে? বলার মত তেমন কোন উন্নয়নতো হয়নি, তার উপর জনসংস্যা বৃদ্ধি ,যানবাহনের সংখা বেড়ে যাওয়া ও ভারীযানবাহন চলাচলের কারনে চরের ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি সড়কে খানাখন্দসহ সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের। এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।প্রতিটি সড়কের এমনই বেহাল দশা যে এখন চলাই দায় হয়ে পড়েছে। অথচ সড়কের এই বেহালদশা কিংবা মানুষের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই!

বছরের পর বছর দরে কাচারী ঘাটের হরকুর নৌকায় উত্তাল নদী পার হয়েছেন, বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে, শীতে কুয়াশায় কেঁপে গ্রীষ্মের গরম বালিতে পা পুড়ে, হেঁটে হেঁটে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার চরের দূর্গম উঁচুনিচু রাস্তা পাড়ি দিয়ে ময়মনসিংহ শহরে অফিস/আদালত, ব্যবসা, ক্রয়/বিক্রয়, চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য আসা যাওয়া করেছেন।যাদের নিজের জমি ছিল তারা পর্যায়ক্রমে ভূমিহীন হচ্ছে। যারা কৃষক ছিল তারা আজ দিন মুজুর হচ্ছে, পরিশ্রম করেও ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারচ্ছে না সাধারণ মানুষগুলো। কারণ চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান সর্বোপরি মানব সম্পদ উন্নয়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সকল উপাদান প্রয়োজন তার কোনটিই চরাঞ্চলে নেই। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, সব কিছুতেই অবহেলিত এই জনপদ।

দিন যায় বছর যায়, অনেক জল এই ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে গড়িয়েছে কিন্তু এই চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের জনগনের ভাগ্যে কোন বদল হয়নি । এখনো এই এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ছোঁয়া লাগেনি, কৃষক কষ্ট করে কৃষি উৎপাদন করলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে উপযুক্ত বা ন্যায্য দাম পায় না। কৃষকের সন্তান লেখাপড়া করতে চাইলেও শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। স্থানীয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায়। পযাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, অনেক দূর যাতায়াতের কারণে, চরাঞ্চলের মানুষ কষ্ট করেও আজ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও এলজিইডি ময়মনসিংহের অফিসে যোগাযোগ করলে, তারা কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

স্থাণীয় একজন থানা আওয়ামীলীগের ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, সদর-৪ আসনে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ২০০৮ ইং হতে ২০১৩ ইং সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর সরকারি দলের এমপি হয়ে অত্র উপজেলার সাধারন জনগন অনেক আশা করে ছিল, এবার হয়ত অর্থবছরে সহ অন্যান্য উন্নয়ন হবে কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। ২০০৮ ইং হতে ২০১৩ ইং সাল পর্যন্ত পাঁচ ৫টি ইউনিয়নের যোগাযোগ খাতে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি বিভাগে ময়মনসিংহের অফিসে পাচঁটি অর্থবছরে বরাদ্ধ দিয়েছেন আওয়ামীলীগ সরকার কিন্তু কোথায় উন্নয়ন হয়েছে তার হদিস খুজে পাওয়া যায়নি।

জনগনের ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা শুনার বা দেখার কথা নাহয় বাদ দিলাম কিন্তু জনগনের চলাচলের দিকটাও যদি এমপি স্যার না দেখেন, তাহলে আমাদের কি করার আছে বলেন? তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ দল সরকারে কিন্তু আওয়ামীলীগের স্থানীয় ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হিসাবে আমার কাছে জনগন জানতে চায় তখন হবে হবে বলে সান্তনা দেই। আর বর্তমানতো জাতীয় পার্টি র এমপি তাই কিছুটা হাফ ছেড়ে বাচলাম।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য চর এলাকার মানুষজন কে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এখন পর্যন্ত এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনে চর এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হন উপজেলা জনপ্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সদস্য, কথা দেন উন্নয়নের, কিন্তু কেউ কথা রাখেন না, এমনটাই হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। রাজনৈতিক মিটিং মিছিলে জনবল বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের লোকজনকে প্রাধাণ্য দেয়া হয়। চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রয়োজনে। মোট কথা চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নে ব্রম্মপুত্র নদঘেষা দক্ষিনের (পৌরসভা শহর)  সুযোগ সুবিধা, নাগরিক অধিকার-এর মূল্যায়ন চরাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলে সতিনের দুই সংসার এর মত।

মন্তব্য করুন