হিজড়াদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন করেন মেয়র টিটু

ময়মনসিংহ কাচারীঘাট বম্মপুত্র নদীর তীরে হিজড়াদের জন্য মাদরাসার যাত্রা শুরু হলো। গতকাল শনিবার বিকেলে কাচারীঘাট সেতু বন্ধন কল্যাণ সংঘ ৩০-৪০ জন হিজড়া নিয়ে কুরআন শিক্ষার ক্লাস শুরু হয়। মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদরাসার শুভ উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ জনপ্রিয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ হিজড়ারা আসতে শুরু করেন। পরিষ্কার, ঝলমলে পোশাক পরে ৩০-৩৫জন হিজড়া এসে বসেন। একজন একজন করে সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় পবিত্র কোরআন শিক্ষা বই। এরপর আবদুর রহমান আজাদ সুরা ফাতিহা ও পবিত্র কোরআনের আয়াত পড়ে শোনান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সেতু বন্ধন কল্যাণ সংঘ সভাপতি তনু হিজড়া।

এসময় মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে পরিপুর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠা যায়। মানুষ কিভাবে সঠিক ভাবে চলাফেরা করবে তার সমস্ত কিছু কুরআন মধ্যে লেখা আছে। মৃত্যুরপর কি হতে পারে তা পবিত্র কুরআনে আছে। সুতরাং আমাদের জীবন দশায় আমরা আল্লাহকে অনুসরণ না করি তাহলে হাশরে শাস্তি পেতে হবে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য যে আয়োজন করা হয়েছে কুরআন শিক্ষা তা সত্যি আনন্দের। আপনাদের চলার পথ আরো ভাল হবে। পবিত্র কুরআন এমন একটা গন্থ যে গন্থ অালোকিত করে তুলবে সবাইকে। আপনারা যে সুযোগ টুকু পেয়েছেন তা অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে । এই শিক্ষা আপনাদের দুনিয়া ও অাখিরাতে কাজে লাগবে । পবিত্র কুরআন মানুষকে বিনয়ি করে। আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো এই শিক্ষা টুকু গ্রহণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আপনারা চাকরী,শিক্ষা,সব কিছু জীবন ব্যাবস্থা সুন্দর করে তুলবেন। আপনাদের মান-মর্যদা কেহ যাতে নষ্ট না করতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পবিত্র কুরআন শিক্ষার যা কিছু প্রয়োজন আমি আপনাদের করে দিবো।

এসময় প্রতিষ্ঠা দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসার পরিচালক মুহাম্মাদ আবদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘‌হিজড়ারা স্কুলে যেতে পারে না, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তো অনেক দূরের কথা। তাদের কেউ কোনো কাজও দেয় না। অনন্যোপায় হয়ে যখন তারা ‌বিশৃঙ্খলা করে, তখন সবাই তাদের উৎপাত মনে করে। এই দোষ আমার নিজের, সমাজের, রাষ্ট্রের।’ মূলত এই চিন্তা থেকেই হিজড়াদের জন্য তিনি মাদ্রাসা চালুর উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মধ্য থেকে যারা কুরআনের হাফেজ হতে পারবে তাদের মাদরাসার পক্ষ থেকে হজ করিয়ে আনা হবে ইনশা আল্লাহ। একই সাথে হাফেজ হওয়ার পর তার বাকি জীবন চলার জন্য মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন তাঁদের অর্থায়ন করেছে। তাঁরা সরকার বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সহায়তা চাননি। এ উদ্যোগ থেকে তাঁরা কোনো লাভ চান না। তাঁদের ভাষায়, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁরা কাজটা করতে চান। কেউ সহায়তা করতে চাইলে করতে পারেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, মুফতি গোলাম মাওলা ভূইয়া,মাওলানা আব্দুল আজীজ হুসাইনী, মাওলানা মামুনুর রশিদ,মিতু হিজড়া, লিপি হিজড়া,সন্ধা হিজড়া প্রমুখ।