হালুয়াঘাটে কিশোরিকে ধর্ষণ করে-সকাল বেলা কাজীর কথা বলে ধর্ষক উধাও

0
912

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ রাতভর ধর্ষণ। ভোর বেলায় কাজীর কথা বলে উধাও। ঘটনাটি ঘটে হালুয়াঘাট উপজেলার নিজ ধারা গ্রামের ১৫ বছরের এক কিশোরির সাথে। ধর্ষক একই গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে বইজ্ঞার পুত্র ৪ সন্তানের জনক ছালাম (৩৮)। গতকাল শনিবার সরেজমিনে ধর্ষিতা কিশোরির বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা বললে সাংবাদিকদের সামনে ধর্ষণের অভিযোগ করে কিশোরি ধর্ষক ছালামের বিচার প্রার্থী হয়েছেন।

জানা যায়, এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী নেতা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। টাকার বিনীময়ে চলছে রফাদফা এমন তথ্যও মিলেছে একাধিক সুত্রে। মেয়ে এবং মেয়ের পরিবার যাতে আইনের আশ্রয় না নিতে পারে এ জন্যেও রাতের আধারে নীলনকশা চালাচ্ছে একটি চক্র। যার কারনে গত ২২ তারিখ দিবাগত রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ ঘটে অনেক পরে। মেয়ের মাতা জানান, এলাকার কতিপয় মাতাব্বর ফয়সালার ভার নিয়েছে। তারা নাকি এর বিচার করে দিবেন এমনটিই জানালেন এ প্রতিবেদকের কাছে।


জানা যায়, অভাবের তাড়নায় মাস খানেক পুর্বে বাবার সাথে গার্মেন্টস এর কাজ শিখার জন্যে গাজীপুর সালনায় গিয়েছিলেন ধর্ষিতা এই কিশোরি। ছালাম তার প্রতিবেশি বিধায় পূর্ব থেকেই তারসাথে পরিচয় ছিলো। মোবাইল ফোনে কথাও হতো। গত ২২ অক্টোবর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে গাজীপুর সালনা থেকে নিয়ে আসে হালুয়াঘাটের স্বদেশী গ্রামে। কিশোরি জানায়, হালুয়াঘাটের স্বদেশী ইউনিয়নের স্বদেশী গ্রামে ছালামের মামার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং রাতে ঐ কিশোরিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। সকাল বেলায় কাজী ডেকে বিয়ে করবে এমন আশ্বাস দিয়ে মেয়েকে ফেলে পালিয়ে যায় বখাটে ছালাম। পরে খবর পেয়ে কিশোরির এলাকার লোকজন গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ছালামের পিতা আব্দুল হামিদ বলেন, আমি বাড়িতে ছিলামনা। চিল্লায় চলে গিয়েছিলাম। ঘটনার পরে বাড়িতে এসে লোকমুখে শুনেছি। আমার ছেলে নেশা করে। একাধিক বিয়েও করেছে। ছেলে তার কথা শুনেন না বলে জানান। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বিপ্লব বলেন, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই শুনিনি। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে স্থানীয়ভাবে তা আপোস মিমাংসার কোন সুযোগ নেই। মেয়েটি আইনের আশ্রয় নিবে এটাই স্বস্বাভাবিক। তবে বিষয়টি তিনি তলিয়ে দেখবেন বলে জানান।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নুরে আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিবার কোন সুযোগ নেই। তিনি ওসি সাহেবকে আইনগত ব্যাবস্থা নিতে বলে দিবেন বলে জানান। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো

মন্তব্য করুন