শ্রীবরদীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ॥ জেলা প্রশাসনের তদন্ত শুরু

0
651

প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত ও সরকারি গাছ কাটাসহ একের পর এক নানা অভিযোগ উঠার পরও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ নানা কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে অভিযোগ করেও কাজের কাজ কোনোটাই হচ্ছে না- এমন অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদের ওইসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এবার তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদের লোকজন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম রবিবার দুপুরে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে জানান, বৃহস্পতিবার তার কাছে সাক্ষ্য দিতে এলাকার শতাধিক লোক উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অভিযোগকারীসহ স্থানীয় ১০/১২ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আরও একটু খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) সাধারণ কর্মসূচীর আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গড়জরিপা ইউনিয়ন পরিষদে আব্দুল কুদ্দুছ চৌকিদারের বাড়ি হতে মরহুম ছাবেদ আলী মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই প্রকল্পের কোন কাজ না করে ভূয়া মাস্টাররোল দাখিল করে বরাদ্দকৃত সমুদয় অর্থ আত্মসাত করেন ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ। এছাড়া তিনি ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুঃস্থ মানুষের গৃহনির্মাণ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় গড়জরিপা গ্রামের মোজাম্মেল মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম, সাবর আলীর স্ত্রী আফরোজা বেগম, মৃত মুনছর আলীর ছেলে আমির উদ্দিনের কাছ থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সামার মাধ্যমে ঘর দেয়ার প্রলোভনে প্রতারণামূলকভাবে প্রায় ১ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে ওই গৃহনির্মাণ সহায়তা না পেয়ে তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাছাড়া ২৪ অক্টোবর দুপুরে কালিবাড়ী থেকে কুরুয়া পর্যন্ত এলজিইডির সরকারি রাস্তার দু’পাশে সরকারি অর্থায়নে রোপিত প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি মেহগণি, বাবলা ও আকাশমনি গাছ ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে নিয়ে যান। ওই ঘটনায় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থানা পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন সরেজমিনে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজত থেকে কাটা গাছগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে গেলেও আজও ওই ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়নি। এছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে কালিবাড়ী থেকে কুরুয়া রাস্তার মিলনবাজারের পশ্চিম পাশে থাকা একটি বড় আকৃতির বাবলা গাছ ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধনে তারই অনুসারী স্থানীয় হালিম মিয়া কেটে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবিয়ে রাখে। ওই বিষয়েও এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতাকে লিখিতভাবে জানালে স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজন গিয়ে চোরাই গাছটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু তারপর ওই চুরির ঘটনায় আর কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অভিযোগ করেও কোন ফলোদয় না হওয়ায় এলাকাবাসীর তরফ থেকে সম্প্রতি বিষয়গুলো সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়।
অন্যদিকে নানা অভিযোগ সম্পর্কে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের মোবাইলে দফায় দফায় চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, স্থানীয় একটি অশুভ মহল তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানীর পথ বেছে নিয়েছে।

মন্তব্য করুন