শিশু নয়ন পড়াশোনা করে বড় হতে চাই?

0
1002

জাহিদুল ইসলাম জীবন : শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানব সন্তান। ক্ষেত্র বিশেষে কখনও বা আমাদের ঘৃণার পাত্র, কখনও বা বিরক্তির। এই শিশুরাই যখন পথে ঘাটে রেল স্টেশনে নাছোড় বান্দার মতো ভিক্ষা পাবার উদ্দেশ্যে অথবা ক্যান্ডি অথবা ফুল কেনার জন্য চাপাচাপি করে তখন এরা হয় বিরক্তির কারণ, যখন চলন্ত ট্রেন একটু ধীরে চলার সময় ইট/কাদা ছুড়ে মারে তখন এরা হয় এরা ঘৃণার বস্তু। আমরা পথে ঘাটে নোংরা শিশু/টোকাইদের দেখলে সহজেই নাক সিটকাই। একবারও কি ভাবি আমরা এদের এই অবস্থার জন্য জন্মগত ভাবে কি এরা নিজেরা দায়ী, নাকি এদের বাবা-মায়েরা?

তেমনি আজ এক শিশুকে দেখতে পেলাম বিভিন পার্কে পাপন বিক্রি করছে। তাকে ঢাক দিয়ে কাছে নিলাম। একটা পাপন চাইলাম। পাপান দিয়ে ১০ টাকা নিয়ে চলে গেল শিশুটি। শিশুর মুখটা দেখে অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছিল। এক পর্যায়ে পাশে বসা আকাশ,অপু বললো ভাই শিশুটাকে চিনি অনেক ভাল। শিশুটিকে টাকা এবং খাওয়ালে সে খায় না। তার কথায় কৌতুহল বাড়লো নিজের মনের ভিতরে।

তাদের কথায় শিশুটিকে কাছে ঢেকে নিয়ে আসলাম বললাম তুমি পাপান বিক্রি করো কেন? সাদাসিধে উত্তর পাপন বিক্রি না করলে খাবো কি? পড়াশোনা করো না? আমাঘর পড়াশোনা করলে কি না করলে কি? তবুও চিন্তা করছি সামনে স্কুলে ভর্তি হবো।

ছেলেটা নাম মো: নয়ন(১১)। পিতা: মৃত সেলিম। তার বাবা ৫ বছর আগে মারা গিয়েছে। তার বাবা ইশ^রগঞ্জ একটি হোটেলে চাকরী করতো। নয়নের মা কাজ করতো । তাদের নিজ বাড়ি ইশ^রগঞ্জ,সরিষা গ্রামে। ৮ বছর ধরে মালুগুদাম বসবাস করেন। ২ ভাই ২ বোন। সবার বড় বোনের নাম শিরিনা,ইশ^রগঞ্জ স্বামীর বাড়ি আছে। ২য় বোনের নাম বিউটি। টাকার জন্য পড়াশোনা করতে না পারায় সে এখন গামেন্স কর্মী। ছোট নয়ন ও তার গামেন্সকর্মী বোনের টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে। নয়নের ছোট আরেক ভাই মু¯তাকিন তার বয়স মাত্র ৬ বছর।

নয়নের সাথে যত কথা বলছি তত অবাক হচ্ছিলাম। তাকে বললাম তুমি পড়তে পার,লিখতে পারো, সে বললো একবার দেখলে সব লিখতে পারি। শিখলে কিভাবে? বাড়ির পাশে ছেলেরা পড়তে যায়না তাদের সাথে গিয়ে দেখে এভাবে শিখে গিয়েছি। বড় হয়ে কি হবে? আল্লাহ যা করে তাই হবো।
শিশুটি আরো বলেন, এক বছর ধরে সে পাপনের ব্যবসা করে। আগে ১০০ বিক্রি করে ৫০০ টাকা লাভ করতাম। এখন বেক্রি ভালনা শীত দেখে বেচাকিনা হয় না।

এই শিশু ছেলেটি তার মাকে বাসা থেকে বের হয়ে কাজ করতে দেয় না। সারাদিন যা বিক্রি তা মায়ের কাছে দিয়ে দেয়। নয়ন মালগুদাম আলতা মিয়ার বাসায় বাড়া থাকেন। এখন তার সংসারে হয়তো অভাব নেই কিন্তু নয়নের পড়াশো করার ইচ্ছা খুব? তাহলে দারিদ্রতার কারনে নয়নের মত ছেলেদের পড়াশোনা কি হবে না? সে চায় একটি ভাল স্কুলে পড়তে।

আমরা কি পারি না এই শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে? বৃহৎ পরিসরে না হোক, আমরা ব্যক্তিগত ভাবে তো তাদের প্রতি আমাদের একটু মমতা; একটু ভালবাসা প্রদর্শন করতে পারি। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি প্রত্যেকে আমরা ব্যক্তিগত ভাবে কিছু করার চেষ্টা করি। খুবই সহজ কাজ। এরকম আরও অনেক কিছু আমরা চাইলেই করতে পারি। আমাদের একটু মমতা; একটু ভালবাসা এই অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। নিষ্পাপ শিশুদের মুখের নির্মল হাসির চেয়ে মধুর এই পৃথিবীতে আর কি হতে পারে! আমরা কি পারি না ক্ষণিকের জন্য এই নিষ্ঠুর জগত সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা হলেও পালটে দিতে?

 

 

মন্তব্য করুন