ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় কেউ হয়রানি হবে না- ওসি শাহ কামাল আকন্দ

0
128
ময়মনসিংহর কোতোয়ালি মডেল থানার সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড শিকারীকান্দা খামার বাজারে বিট পুলিশিংয়ের উঠান বৈঠক শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোঃ আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, উন্নয়নের পুর্ব শর্ত হলো আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, গরু চুরি রোধ করতে হবে। বিট পুলিশিং হলো, মানুষের দোর গৌড়ায় পুলিশী সেবা পৌঁছে দেয়া। ছোট খাট অপরাধের জন্য কাউকে থানায় অর্থ ও সময় নষ্ট করতে হবেনা। প্রতিটি বিটে একজন করে পুলিশ অফিসার দায়িত্বে রয়েছেন। ঐ অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি এলাকায় বসে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনা নিস্পত্তি করে দিবেন। আর সম্ভব না হলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে মামলার সংখ্যা কমে আসবে। পাশাপাশি জন হয়রানী এবং আর্থিক অপচয় রোধ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে দিন রাত কাজ করছেন। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদক ব্যবসায়ী, চোর ছিনতাইকারী, প্রতারকসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। গরু চোর, জুয়াড়ি, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর অপরাধীদের গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতাদের নাম গোপন থাকবে।
ওসি আরো বলেন, কিশোরদের হাতে স্মার্ট ফোন দিবেন না। এ জন্য অভিভাবকদের আরো সজাগ থাকতে হবে। আমি যতদিন আছি কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি বা মামলা করতে কেউ কোন ধরনের হয়রানি হবে না। প্রতারক, দালালচক্র বা কেউ জিডি ও মামলা সংক্রান্তে কেউ টাকা বা অনৈতিক দাবি করলে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিট পুলিশিং সম্পর্কে তিনি বলেন, বিট অফিসারকে সহযোগিতা করুন, ছোট খাট অপরাধের জন্য মামলা না করে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হলে মামলার সংখ্যা কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থের অপচয় রোধসহ হানাহানি কমে আসবে।
বিভিন্ন মামলায় দু-চার মাস বা সামান্য জেল জরিমানার সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অনেকেই বছরের পর বছর কিংবা আরো বেশি সময় ধরে সংসার, ব্যবসা বানিজ্য ও কৃষি কাজ ফেলে পলাতক রয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ওসি বলেন, চু চার মাস বা বছরখানেকের জেল মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর সময় পলাতক জীবন কাটালেও জেল মাফ হবেনা। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকায় আপনার সংসার, ব্যবসা বানিজ্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। স্ত্রী সন্তান অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, পলাতক জীবন অনেক কষ্টের। এই কষ্টের দিন বাদ দিয়ে আদালতে আত্নসমর্পণের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। নিজের সংসার, ব্যবসা বানিজ্য ও স্ত্রী সন্তানদের হাল ধরুন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন, এসআই দেবাশীষ রায়, বিট অফিসার এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন, মহানগরের ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদুর রশিদ রিপন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি জি এম এম মোফাছেছুর রহমান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাচ্চু।
পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও আওয়ামীলীগ দলীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সাইদুর রহমানের আয়োজকসহ সভায় তরুন আওয়ামীলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন বাবুল,২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম হোসেন হামিদ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সভায় আগতদের কাছ থেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে এলাকার সমস্যা, অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য করা হয়।

মন্তব্য করুন