মাত্র ৪৮ ঘন্টায় আই ফোন উদ্ধার জেলা পুলিশ সুপার বুঝিয়ে দিলেন মোবাইল

0
112
একজন ডাক্তারের মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়া জন্য দ্বারস্থ হয়েছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের কাছে। তিনি কোতোয়ালী মডেল থানার এএসআই আমির হামজাকে মোবাইল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। নির্দেশের দুদিনে মাথায় আই ফোনটি উদ্ধার হলো!
৩৯ তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত ডাঃ আদিল ইফতেখার টাংগাইলে জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি কোতোয়ালী থানা এএসআই আমির হামজা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধারের পর আজ ১২ এপ্রিল পুলিশ সুপার আহমার উজ্জান এর মাধ্যমে মালিকের হাতে আজ তুলে দিলেন। মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে পুলিশের সময় লেগেছিল মাত্র দুইদিন।
ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় ওসি হিসেবে শাহ কামাল আকন্দ পিপি এম (বার) যোগদান করার পর জনগনের মোবাইল হারানো, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারের ব্যপারে এ এস আই আমীর হামজা কে দায়িত্ব দেন। থানার বিভিন্ন সেবা মুলক কাজের পাশাপাশি তিনি মোবাইল উদ্ধার কাজে বেশীর ভাগ সময় দেন। গত ৭ মাসে এ এসআই আমির হামজা এ পর্যন্ত ২শ ৪৭ টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরৎ দিয়েছেন।
সেপ্টেম্বর থেকে হাফ এপ্রিল ২০২২ সাল। সময়টা মাত্র ৭ মাস। আর এই সময়ে ডাক্তার, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারন মানুষের ছিনতাই হওয়া ২শ ৪৭ টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এ এস আই আমির হামজা। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন পুরস্কারও। অফিসার ইনচর্জ শাহ কামাল আকন্দ যোগদান করার পর এ সেবা ব্যপক ভাবে চালু হয়। উপকৃতও হচ্ছে জনগন।
আমির হামজা শুধু তার কর্মস্থলের আওতাধীন এলাকার মোবাইল উদ্ধার করেন না। বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারের জন্য তার দ্বারস্থ হন অনেকে। কাউকে হতাশ হতে হয়নি তার কাছে গিয়ে। সাধ্যমতো চেষ্টা করে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের মোবাইল উদ্ধার করে দিচ্ছেন। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় কর্মরত আছেন।
আমির হামজা এর আগে ডিআইজি অফিসে কর্মরত ছিলেন। পরে তার পোস্টিং হয় ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায়। কোতুয়ালী মডেল থানায় মাত্র ৭ মসের অধিক সময় ধরে কর্মরত আছেন। এ সময়ের মধ্যেই তিনি ২শ ৪৭ টি মোবাইল উদ্ধার করে অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দের মাধ্যমে মালিকদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার করে অপরাধীদের ধরার কাজও করছেন আমির হামজা।
অনেকের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, মোবাইল ফোন উদ্ধার করা আমিরের চমৎকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি সে পুলিশের বিভিন্ন ডিউটি ও অভিযান কাজেও অংশ গ্রহন করে থাকে। মোবাইল হারানোর জিডি হলেই তার ডাক পড়ে। তিনিও একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্ধারে নেমে পড়েন। উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকেন। কর্মজীবনের প্রায় অনেকটা সময় তিনি সুনামের সাথে কাটিয়েছেন। হারানো মোবাইল উদ্ধারের ক্ষেত্র কোনটিতে তিনি দু’দিন থেকে শুরু করে দুই মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। শুধু মোবাইল ফোন উদ্ধারই নয়। কর্মস্থলের অন্য কাজগুলোও তিনি গুরুত্বসহকারে করেন। আমির হামজা বলেন, মোবাইল ফোন উদ্ধারের েেত্র আমি মোবাইলের দাম বা ব্যক্তির মূল্যায়ন করি না। যত কম দামের মোবাইল হোক বা গরিব রিকশাচালক বা শ্রমিকের হোক সমান গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার করি। কারণ মানুষের অনেক মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে সে ততটা কষ্ট পায় না, “যতটা কষ্ট পায় একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে”। কারণ মোবাইলে অনেকের অনেক স্মৃতি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। যা হারিয়ে গেলে তার অনেক তি ও মনে কষ্ট হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় ওসি শাহ কামাল আকন্দ যোগদান করার পর মোবাইল উদ্ধার হওয়া কাজ করায় জনগনের কাছে বাড়তি সেবা যুক্ত হয়েছে। প্রযুক্তির এই সেবা পেয়ে জনগন উপকৃত হচ্ছে। গত ৭ মাসের অধিক সময়ে ২শ ৪৭ টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন