মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর ঘটনায়- প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবী

0
1610

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম ব্রীজমোড় এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সৃতিসৌধ সংলগ্ন রাজা বিজয় সিংহ দুরধরিয়া শিব মন্দির শিবলিঙ্গ বিগ্রহ ভাংচুর এবং প্রতিমা অপসারনের প্রতিবাদে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুজা উদযাপন পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখা, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ময়মনসিংহ জেলা শাখা।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখা সভাপতি এডভোকট বিকাশ রায় । লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এডভোকেট পিযুষ কান্তি সরকার বলেন, রবিবার অবৈধ উচ্ছেদের নামে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ কতৃক জেলা প্রশাসনের সহয়তায় মোবাইল কোটের মাধ্যমে ময়মনসিংহ ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধের দক্ষিণ দিকে রাজা বিজয় সিং দূরধরিয়া শিব মন্দিরটি বোলডুজার দিয়ে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় মন্দিরসহ পুরহিতদের থাকার ঘর বিনা নোটিশে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাহা বাংলাদেশে নজির বিহিন ঘটনা। এ বিজয় মাসে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসীন থাকা সত্তে¡ও এহেন ঘটনায় ময়মনসিংহের হিন্দু সম্পদায়ের সহ প্রগতিশীল মুক্তিযুদ্ধের শক্তি সমূহ হতভঙ্গ। শ্রী শ্রী কালি মাতার মন্দির ভাঙ্গার পর প্রতিমাটি খোলা মাঠে অরক্ষিত অবস্থায় দেখা যায় এবং শিব মন্দিরটি ভাঙ্গার পর শিব লিঙ্গটি ভাংচোর করা হয় যাহা প্রতিটি ধর্মীয সম্প্রদায়ের মনে ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত লেগেছে।

আরো বলেন, মন্দির ৫৩ শতাংশ জায়গা সহ সি,এস রেকর্ড রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়া নামে প্রচারিত হয়। এস,এ রেকর্ডের সময় রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়ার নামে ওয়াকিং ভলিয়ুমে নাম অন্তভুক্ত হয়। মন্দিররস্থ জায়গায় ৫২ শতাংশ জমি নিয়া বি,আর,এস রেকড ভুল বশত: সড়ক ও জনপদের নামে লিপিবদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার পক্ষে সড়ক ও জনপদ ময়মনসিংহ ১ নং বিবাদী এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ ২ নং বিবাদী করিয়া বিজ্ঞ জেলা ময়মনসিংহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে ১১৭৯/২০১৬ সন রাজা বিজয় সিংহ দূরধরিয়া শিব মন্দির পক্ষে পুরুহিত শ্রী দ্বীজেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী বাদী হইয়া মোকাদ্দমাটি দায়ের করেন যাহা চলমান অবস্থায় আছে এবং বিবাদী পক্ষগন উক্ত মোকদ্দমা সম্পর্কে অবগত আছেন।

আরো বলেন, গত ৪ ডিসেম্বও উক্ত বিষয় আলোচনার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠানের সাথে ঘটনার বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। তিনি মন্দির ভাঙ্গার ও প্রতিমা সরানোর দায় স্বীকার করেন। আমাদের এখানে কোন মন্দিও পুন:স্থাপন দিবেনা বলে জানিয়েদেন। চেয়ারম্যান আনাকাংক্ষিত আচরনে আমরা সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায় অত্যান্ত মর্মাহত ও ক্ষুদ্ধ এবং আতংকিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছে বলে জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তিনি সমস্যা সমাধানের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহনের উদ্যোগ নিবে বলে জানান।

এন্দির বিগ্রহ ও পুরুহিতের বাসস্থান ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দাতা, ও ভাঙ্গার নেতৃত্বদানকারী ও জড়িত জেলা পরিষদের নির্বাহি কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ সচিব ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবী জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সুজিত বর্মন, মুক্তিযোদ্ধা নৃপেশ রঞ্জন সরকার, অসিত রঞ্জন দত্ত বাবন, শংকর সাহা, রতন পন্ডিত, এডভোকেট প্রশান্ত কুমার দাস চন্দন, এডভোকেট তপন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে রাজা বিজয় সিংহ দুরধরিয়া শিব মন্দির শিবলিঙ্গ বিগ্রহ ভাংচুর এবং প্রতিমা অপসারনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্দিরটি পুনঃ স্থাপনের দাবী জানান।

 

মন্তব্য করুন