ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা -যমের দুয়রে পড়ল কাঁটা

0
2126

স্টাফ রিপোটার : যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।”ছড়াটি শুনলেই সবার মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় অন্যরকম অনুভূতি; ভেসে ওঠে একটি বিশেষ মুহূত্বের কথা । সেটি হল, ‘ভাই ফোঁটা’। আজ (২১,অক্টোবর), হিন্দু বাঙালির ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে এক অন্যরকম উৎসব, ‘ভাই ফোঁটা’। প্রতি বছর সাধারণত ‘শ্যামা পূজার’ ২ দিন পর পালন করা হয় ভাই ফোঁটা। আবার শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে পালন করা হয় বলে একে ‘ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া’ ও বলা হয়। তবে এটি অন্য নামেও ভিন্ন দেশ যেমনঃ ভারত, নেপালেও প্রচলিত আছে। পুরাণের কাহীনি অনুসারে, কোনো এক কার্ত্তিক মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনা তার ভাই যম এর মঙ্গল কামনায় পূজা করেন। তার পুণ্যফল স্বরুপ যম অমরত্ব লাভ করেন। সেই থেকে এর অনুসরণে বোনেরা ভাইয়ের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায় ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার প্রচলন হয় বলে মনে করা হয়।এই উৎসবের মূল আকাঙ্খা হল, ভাইয়ের জন্য মঙ্গল কামনা এবং আশীর্বাদ করা।

ময়মনসিংহ নানা আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানটি পালিত হয়েছে । স্নান করে পবিত্র হয়ে নতুন পোশাক পরিধান করা হয়। এরপর বোন তার ভাইকে সামনে আসনে বসিয়ে প্রদীপ,চন্দন,দূর্বা,ধান প্রভৃতি মাঙ্গলিক উপাচারের উপস্থিতিতে ভাইয়ের শুভ কামনায় বিভিন্ন ক্রিয়াদি সম্পন্ন করে।

ধান ও দূর্বা ভাইয়ের মাথায় ছুঁইয়ে বোন ভাইকে আশীর্বাদ করে। এরপর হাতের কড়ে আঙ্গুলে চন্দন লাগিয়ে ভাইয়ের সঙ্গল, সুস্থতা, সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেওয়া হয় এবং তার সাথে সাথে ‘ভাই ফোঁটা’র ছড়াটি উচ্চারণ করা হয়। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাইয়ে ছোট বোন দাদা’কে এবং ছোট ভাই তার দিদিকে প্রণাম করে।সব শেষে ভাই-বোনের মধ্যে উপহার বিনিময়ের রীতিও প্রচলিত আছে। যা বিশেষ করে ছোটদের কাছে বেশ আনন্দ বহন করে।’ভাই ফোঁটা’ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান নয়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর ভাই ও বোনের সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করে এই ‘ভাই ফোঁটা’।

মন্তব্য করুন