ফুলবাড়িয়ার ২২ ঘন্টা পর শিশু সেজাদরে মরদেহ কলমদারী নদী থেকে উদ্ধার

0
625

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ২২ ঘন্টা পর আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে শিশু সেজাদরে (৭) মরদেহ কলমদারী নদী থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল রবিবার বিকাল ৩টার দিকে বাসার কাছ বয়ে যাওয়া কলমদারী নদীর পাড় থেকে নিখোঁজ হয় সে। ঘটনাটি স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তারা দায়সারা অভিযান শেষ করে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৈলজান গ্রামের দুই সন্তানের জনক কাপর ব্যবসায়ী হযরত আলী স্থানীয় শিবগঞ্জ বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তার ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি সেজাদের গতকাল রবিবার বিকাল ৩টার দিকে বাসার গেইটের বাইরে সর্বশেষ জেঠা হাফিজুল ইসলাম স্বপনের সাথে কথা হয়। গোসল করে ভাত খাওয়ার কথা ছিল সেজাদের।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস জৈঠার সাথে ভাত খাওয়া হয়নি। হয়তবা সেখান থেকে বের হয়ে নদীতে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নদীর পাড়ে সেজাদের এটি জুতো পড়া ছিল আরেকটি জুতা একটু দূরে পরা ছিল। কিন্তু সেজাদ কোথাও না পেয়ে বাবা-মা পাগল প্রায়। খবর দেয়া হয় থানায় ও ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা ৩০মিনিটের মধ্যে অভিযান সমাপ্ত করে চলে আসে।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথা হয় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার মো: নুরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান স্থানীয়রা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি শিশুটি নদীতে পড়েছে। তারা কিছু আলামত বলেছে সেই হিসাবে তাদের সন্দেহের প্রেক্ষিতে ডুবুরী দল সার্চ করেছে।

এদিকে নদীর তেমন গভীরতা এবং স্রোত না থাকায় সরকারী বাহিনীর আশায় না থেকে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তল্লাশিতে নামেন। তল্লাশির ১০মিনিটের মাথায় কামরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবক সেজাদের নিথর দেহ নিয়ে পাড়ে উঠে আসেন।

পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে ঐ এলাকার বাতাস ভারী হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমান বাড়ীতে। বাকরুদ্ধ হয়ে যান বাবা-মা।আজ সোমবার বাদ আছর নিজ বাড়ীতে নামাজে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল রাতের অন্ধকারে জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদের সাধ্য অনুযায়ী খোজাখুজির চেষ্টা করেছে

মন্তব্য করুন