পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তৃতীয়দিনের মত টানা মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা

0
252

করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মানুন, নিজে সুস্থ্য থাকুন, পরিবার ও দেশকে সুরতি রাখুন এই শ্লোগান নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ বৃহ¯প্রতিবার সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাস্ক বিতরণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো কার্যক্রম করা হয়। করোনাযোদ্ধা ও মানবিক পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানের নির্দেশে নগরীর গাঙ্গিনারপাড় মোড়ে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই মানবিত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে আসছে শীতে দ্বিতীয় দফায় করোনার ঝুকি আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। করোনা ঝুকি মোকাবেলায় সরকার আইন করেছে। মাস্ক না পরলে ৬ মাস পর্যন্ত জেল ও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জেলা পুলিশ করোনার ঝুকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে অতীতের ন্যায় গত মঙ্গলবার থেকে জেলা পুলিশ আবারো প্রচারণায় নেমেছে। এই প্রচারণা টানা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান পাটগুদাম ব্রীজমোড়ে দ্বিতীয় দফায় করোনার ঝুকি মোকাবেলা মাস্ক বিতরণ, লিফলেট বিতরণ ও সচেতনামুলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বুধবার পুলিশ সুপার নগরীর চরপাড়া মোড়ে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। মাস্ক বিহীন মানুষজনকে আইন সম্পর্কে জানানো, সচেতন করা এবং জেল জরিমানা সম্পর্কে অবহিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর পরও মাস্ক বিহীন রাস্তায় চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা জেল জরিমাণা করা করা হবে। মাস্ক বিহীন কাউকে রাস্তায় পেলে পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। পরে তিনি গাঙ্গিনার পাড় মোড়ের একাধিক হোটেল, পুস্তক ও মিষ্টি দোকানে মাস্কের গুরুত্ব, জেল জরিমাণা সম্পর্কে সচেতনতা এবং মাস্ক বিহীন ক্রেতাদের কাছে কোন ধরণের পণ্য বিক্রি না করতে দোকানীদেরকে পরামর্শ দেন । এ সময় বিভিন্ন দোকানের সামনে নো মাস্ক, নো পণ্য, নো মাস্ক নো খাবার লেখা ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে দেন। এর আগে তিনি মাস্ক বিহীন পথচারী, রিস্কা, অটো, ভ্যান চালকদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে তিনি বলেন, মূলত মাস্ক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই এই উদ্দোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, হাফিজুল ইসলাম, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার,ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন, ওয়াজেদ আলী, দুলাল আকন্দসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান করোনাকালের শুরু থেকে মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচারণা, মাস্ক, সেনিটাইজার বিতরণসহ সাধারণ মানুষকে সুরতি রাখতে নানা উদ্দোগ, করোনাকালে পথচারী, বেকার ও নতুন করে হয়ে পড়া বেকার, অসহায়দের মাঝে খুজে খুজে টানা খাবার বিতরণ করে মানবিক পুলিশ সুপার হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। হয়ে উঠেন অপ্রতিরোদ্ধ করোনাযোদ্ধা। সেই করোনাযোদ্ধা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান করোনার দ্বিতীয় দফার ঝুকি থেকে ময়মনসিংহবাসিকে মুক্ত রাখতে উদ্দোগী হয়ে প্রচারণায় মাঠেন নামেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন।

মন্তব্য করুন