পুলিশকে টাকা দিতে না পারায় টমটম চালক কারাগারে

0
645

মামলার বাদী মামলা সম্পর্কেই জানেন না। অথচ এক টমটম-চালককে হত্যা মামলার আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল থানায়। পুলিশের দাবি করা টাকা দিতে না পারায় নিরপরাধ ওই টমটম-চালককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই টমটম-চালকের নাম মো. ফরহাদ হোসেন (৩৫)। তার বাড়ি বাউফল উপজেলার দাশপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে অসহায় ফরহাদের পরিবার।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আফরোজা কুমকুম বলেন, আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এ ঘটনায় আমি কোনো মামলা করিনি। আর আমাদের কোনো অভিযোগও নেই। তবে পুলিশ লাশ হস্তান্তরের সময় সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। টমটম-চালককে কারাগারে পাঠানো হয়ে থাকলে তার ওপর অবিচার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাউফল-বগা সড়কের কাগুজিরপুল এলাকায় একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মালবাহী টমটমের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। ওই সময় মোটরসাইকেলের চালক মো. অন্তু (১৮) ও তার ছোট ভাই শামসুল আরেফিন (১৩) আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামসুল আরেফিনকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টমটম-চালক ফরহাদ হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আরেফিনের লাশের ময়নাতদন্ত করাতে চায় পুলিশ। আর এতে বাধা দেয় আরেফিনের স্বজন, সহপাঠীসহ স্থানীয় হাজারো মানুষ। এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জনরোষের মুখে বেলা ৩টার দিকে সাদা কাগজে আরেফিনের মায়ের স্বাক্ষর রেখে পুলিশ লাশ দিয়ে দেয়। রাত সাড়ে ৮টায় জানাজা শেষে আরেফিনের লাশ বিলবিলাস গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত শামসুল আরেফিন বাউফল মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

ফরহাদের স্ত্রী শিল্পী বেগম (২৮) জানান, আরেফিনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ করা হয়নি। এ কারণে ফরহাদের ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে পুলিশ ৩০ হাজার টাকা চেয়ে বেঁকে বসে। টাকা দিতে না পারায় তাকে দুর্ঘটনার মামলায় আসামি করে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আরেফিনের মা আফরোজা কুমকুম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ কারণে তাকে (ফরহাদ) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলা চালাতে না চাইলে ফাইনাল দিয়ে দিব। কারও কাছে কোনো প্রকার টাকা চাওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য করুন