আসামীদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ

0
822

রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। আজ (২৬ নভেম্বর) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ১০৫৫ পৃষ্ঠার রায় পাঠ চলছে।

বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামীদের আপিলের রায় রোববার।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এ রায় পাঠ করা হচ্ছে। রোববার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১ হাজার ৫৫ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আদালতে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন।

গত ১৩ এপ্রিল বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামীর ডেথ রেফারেন্স ও আসামীদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রাখা হয়।

২০১৫ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

এই বেঞ্চে ৩৭০ কার্যদিবস আসামীদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ বিভিন্ন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তরে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।
একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। বিচার হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন আলীয়া মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে। বিচার শেষে ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

আসামী সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। এই মামলায় আসামী ছিলেন ৮৪৬ জন। সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল।
খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন। এরপর আসামীদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিতরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। আর ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল।
সেদিন (১৩ এপ্রিল) শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

মন্তব্য করুন