নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এডওয়ার্ড স্কুল ভবন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরোদ্ধে

0
908

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহ এডওয়ার্ড ইনষ্টিটিউশন স্কুল এই শিহ্মা প্রতিষ্ঠানটি ১৯০৩ সালে স্থাপিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে অনেকেই ডাক্তার, ইনঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব হয়েছেন। স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেট খেলোয়ার রামচাঁদ গোয়ালা, হারুন-রশীদ লিটন, সানোয়ার হোসেন এবং বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় দলের মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এডওর্য়াড ইনষ্টিটিউশন স্কুল। ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি ছিল এক সময়ের সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী হিসাবে খেলার মাঠ। এই স্কুলে এক সময় নিয়মিত পাঠদানসহ জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বৃত্তিসহ গোল্ডেন প্লাস ও স্কুল পরীক্ষায় খুব ভাল ফলাফল করে থাকে। এই স্কুলে মনোরম পরিবেশ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা কোলাহলে মুখরতি ছিল। কয়েক বছর ধরে সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও পরিবেশ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্কুলের একাধিক অভিভাবকরা। এছাড়া এখন এডওর্য়াড স্কুলে জেডিসি, জেএসসি, ও এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও উম্মুক্ত পরিক্ষার সিট পযন্ত কেটে নিয়েছে।

জানাযায়, ময়মনসিংহ এডওর্য়াড স্কুলের ভিতরে সরকারী টাকায় স্কুলের ক্লাস হওয়া ভবনের একটি রুম ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আমিনুল করিমের বিরুদ্ধে। তিনি স্কুলের ভবনের রুমটি ভেঙ্গে ফেলার আগে কারো কাছ থেকে অনুমতি পযন্ত নেই নাই! সরকারী টাকায় করা ভবনটি ভেঙ্গে স্কুলের মাঠ বন্ধ করে বহুতলা ভবন করার জন্য তিনি পায়তারা করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও ওয়ার্ডের কমিশনারের রোষানলে পরে বিল্ডিং ভাঙ্গা বন্ধ রাখে প্রধান শিক্ষক। যেখানে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যেকোন খেলার মাঠ বন্ধ না করে সংরক্ষণ করার জন্য। তার নির্দেশ না মেনে তিনি বহুতলা ভবন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষ আমিনুল করিম। তিনি এতো শক্তি পায় কোথায়? স্কুলে পুরানো বিল্ডিং ভেঙ্গে ওখানে কেন বহুতলা বিল্ডিং করবেনা সেটি সবার কাছে প্রশ্ন?

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমিনুল করিমের সাথে ভবন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে কথা বললে তিনি বলেন এই ক্লাস রুমটি ডেমিজ হয়ে গিয়েছিল। ছাদের উপর থেকে ভেঙ্গে চলটা পরতো নিচে। তাই এই ভবনটি ভেঙ্গে ফেলাল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনুমতি নেওয়ার কাগজ দেখতে চাইলে তিনি পরে আসতে বলেন। একটি র্৪থ তলা ভবনের কাজ এসেছে। এই ভবনটি করার জন্য মাঠের এক কোণে র্নিধারণ করা হয়েছে। যতটুকু মাঠ থাকার দরকার ততটুকু মাঠ রেখেছি।

 যে ভবনটি ছাদ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এখানে ৩টি রুম করেছিল একসাথে সরকারী টাকায় এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রায় একমাস আগে এই ভবনটি সংস্কারের জন্য আনুমানিক ৪-৫ লাখ দেওয়া হয়েছে স্কুলের এই প্রতিষ্ঠানটিকে। বাকী দুই রুমের ছাদ ও দেয়াল কাজ সংস্কার করলেও বাকী একটি রুম কাজ না করে কেন ভেঙ্গে ফেলা হলো এটি প্রশ্ন ? ভবনটি ডেমিজ হলে ৩টি রুম একসাথে হওয়ার কথা একটি রুম কখনো ডেমিজ হওয়ার কথা না? প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত হয়েছে স্কুলটি।

একাধীক সুত্রে আরো জানাযায়, সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও সভাপতির একগুয়েমি আধিপত্য বিস্তাারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অভিভাবক সদস্যদের বিবাদ এবং প্রধান শিক্ষক নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না আসা ও ক্লাস না নেওয়ায় নিয়মিত পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হওয়াসহ নানা সমস্যায় পতিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় এবং সার্বিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

তাদের দুরভিসন্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি পরিক্ষার সিট পড়া ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও স্কুলের খেলার মাঠ বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

(বিস্তারিত আরো আসছে)।

মন্তব্য করুন