ধর্মকে কীভাবে দেখেন সৌদি শাসকরা

0
1022

 

পূর্ববর্তী সৌদি
শাসকরা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির ব্যাপারে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, বর্তমানরা সেখানে ধর্মকে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর কর্তৃত্ব হাসিলের পর থেকেই তা
বহাল রাখার জন্য ধর্ম শুধু অভ্যন্তরীণ হাতিয়ারই হয়নি; বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ওপর তার নেতৃত্ব ও আধিপত্য আরোপ করার জন্য ধর্মকে একটি বহিরাগত হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার
করা হচ্ছে
বিগত কয়েক দশক ধরে সৌদি শাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং আঞ্চলিক আধিপত্য লাভের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করেছে। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থানগুলো সৌদি আরবে হওয়ায় তারা এক ধরনের মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও মুসলিমদের প্রতি তারা উল্লেখযোগ্য কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। বিশেষ করে বিশ্ব মুসলিমের নিপীড়ন-নির্যাতনের দুঃখজনক ইতিহাসে তাদের কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। বরং ইতিহাস বলছে, সৌদি রাজবংশ সবসময়ই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অমুসলিমদের প্রাধান্য দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও চরমপন্থী হিসেবে যারা ব্যাপক প্রচার করেছে তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক অনেক প্রাচীন ও নিবিড়।
সময়ের প্রয়োজনে সে তারাই আবার ধর্মকে প্রচ- আঘাত করছে। মুহাম্মাদ বিন সালমানের সৌদির বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রচ- ঝাঁকুনি দেয়ার প্রচেষ্টা সৌদি আরবকে ভয়াবহ ও অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। অতি সম্প্রতি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান ঘোষণা করেন, তার দেশ ‘মধ্যপন্থী ও উন্মুক্ত’ ইসলামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ মন্তব্য সৌদি আরবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং তা সৌদি আরবের ধর্মীয় স্তরে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে তার বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। অনেকেই মুহাম্মাদ বিন সালমানের অধীনে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে পূর্ববর্তী সৌদি শাসকরা মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির ব্যাপারে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, বর্তমানরা সেখানে ধর্মকে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর কর্তৃত্ব হাসিলের পর থেকেই তা বহাল রাখার জন্য ধর্ম শুধু অভ্যন্তরীণ হাতিয়ারই হয়নি; বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ওপর তার নেতৃত্ব ও আধিপত্য আরোপ করার জন্য ধর্মকে একটি বহিরাগত হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইসলামী পবিত্র স্থান ও আশপাশের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বাদশাহ সালমানের সরকার মাতাফের সীমানা সম্প্রসারণের জন্য ১০০ বিলিয়ন বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। এ ‘উদার’ তহবিল এমন একটি কঠিন সময়ে গৃহীত হয়েছে, যখন সরকার সব সৌদি নাগরিকের ওপর অর্থনৈতিক কঠোরতা আরোপ করছে। সরকারি সব ভর্তুকি কমিয়ে দিয়ে জ্বালানি, পানি এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক পণ্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে সৌদি নাগরিকদের ওপর অর্থনৈতিক তীব্রতা আরোপ করেছে। উপরন্তু সরকার ইয়েমেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখনও বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। যুদ্ধের প্রতিদিনের খরচ ২০০ মিলিয়ন ডলার।
সাধারণভাবে তহবিলের এ প্রবাহকে কোনো অবস্থাতেই নির্দোষ বিনিয়োগ বা নিছক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; বরং এটি ধর্মের রক্ষাকর্তা হিসেবে সৌদি রাজতন্ত্রের ইমেজ তৈরির একটি কৌশলমাত্র। এ ভিত্তিতে, সৌদির প্রাচীন ঐতিহ্য হলো, যে কোনো নতুন রাজা ক্ষমতায় আসার পর ওই পবিত্র স্থানগুলোর জন্য নতুন পরিকল্পনা শুরু করেন এবং প্রকল্পগুলো সারা জীবন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেন।
প্রকৃতপক্ষে এ পরিকল্পনার পেছনে অন্তর্নিহিত মৌলিক চিন্তাটা প্রকাশ পায় ইসলামকে ধারণ করার ধারাবাহিক দৃঢ় অঙ্গীকারের ইমেজের মধ্য দিয়ে, যা পবিত্র স্থানগুলোতে উন্নয়ন বিস্তৃত করার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ পূর্ববর্তী বাদশাহ আবদুল্লাহর যুগে ঘোষণা করা হয়, মাতাফের আঙিনা সম্প্রসারণ করা হবে, যা টানা তিন বছর কাজ করার পর অবশেষে সম্পন্ন হয়েছিল। উপরন্তু তার উত্তরসূরি বাদশাহ সালমানও একই মাতাফের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত নতুন প্রকল্প শুরু করেন।

মিডল ইস্ট আইয়ের সম্পাদকীয় থেকে অনুবাদ
মুহাম্মাদ শোয়াইব

মন্তব্য করুন