ত্যাগী কর্মীদের স্থান হয়নি ময়মনসিংহ মহানগর (প্রস্তাবিত) অাওয়ামীলীগের কমিটিতে !

0
3204
লাল বৃত্তে মোঃ সোহেল গনি সহ তৎকালিন সময়ে তোলা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক,মাইক হাতে আওয়ামীলীগ। নেতা চরের জলিল , সর্বশেষে বসে অাছেন মুক্তাগাছার এড, বদর উদ্দিন। যার হাঁত পাঁয়ের রগ কেটে দিয়েছিল জামাত শিবিরের সন্ত্রাসীরা। ছবি:সংগৃহিত
লাল বৃত্তে মোঃ সোহেল গনি সহ তৎকালিন সময়ে তোলা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক,মাইক হাতে আওয়ামীলীগ। নেতা চরের জলিল , সর্বশেষে বসে অাছেন মুক্তাগাছার এড, বদর উদ্দিন। যার হাঁত পাঁয়ের রগ কেটে দিয়েছিল জামাত শিবিরের সন্ত্রাসীরা। ছবি:সংগৃহিত

স্টাফ রিপোটার : সদ্য ময়মনসিংহ মহানগর অাওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষর করা ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কেন্দ্রীয় অাওয়ামীলীগ দফতরে প্রস্তাব করে পাঠিয়েছেন। ৭৫ সদস্যর কমিটির তালিকা দেখে ময়মনসিংহ অাওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে ।

তাদের মধ্যে একজনের সাথে কথা বলে জানা যায় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের কারন। তিনি হলেন মোঃ সোহেল গনি, সাবেক যুগ্ম-আহ্ববায়ক ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগ (১৯৯২-৯৩ ইং) ।

সোহেল গনি সাথে কথা বললে বলেন,  শরীফ হাসান অনু ভাইয়ের হাত দরে স্কু‌লে পড়ার অবস্থায় ১৯৯০ ইং সালে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হই। স্বৈরাচার এরশাদ সরকা‌রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।। ১৯৯১ ইং সালে অাওয়ামীলীগের পরাজয়ের পর, মানুষ বলতো ২১ বছর কেন, ১০০ বছরেও অাওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অাসতে পারবেনা। বিএনপির সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৫ ইং তারিখে পাতানো একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনে ময়মনসিংহ শহরে হাতে ঘোনা কয়েকজন এর মধ্যে আমিও ছিলাম একজন। সেই ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচ‌নে বিএন‌পি সরকার সারা দে‌শে আ‌র্মি না‌মি‌য়ে দেন। বিএনপির পাতানো ১৫ ফেব্রোয়ারীর নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে জীবনের ঝুকি নিয়ে আন্দোলনে করেছি। সেনাবাহিনী টহল থাকা অবস্থায়। কেন্দ্রীয় নির্দেশ মতো দুইজন (একতরফা নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী) প্রার্থীকে প্রতিরোধের দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেছি। ১৯৯৫-৯৬ সালটা ছিল অাওয়ামীলীগের জীবন মরন লড়াই বা দলের ক্লান্তিলগ্ন । কেন্দ্রীয় নির্দেশ পালন কর‌তে গি‌য়ে কবর স্থা‌নে লু‌কি‌য়ে থাক‌তে হ‌য়ে‌ছে, ন‌িজের পা ভে‌ঙ্গে গি‌য়ে‌ছিল তবুও দলের দা‌য়িত্ব পাল‌ন ক‌রি‌ছি। জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছি,পরিবারের উপড়ও হামলা মামলা করেছে এলাকার বিএনপি জামাতের লোকজন। ঢাকায় জনতার মন্চ ও বিএনপি জামাতের বি‌রুদ্ধে দলের ডাকা ল‌গি‌-বৈঠার আ‌ন্দোল‌নে ঢাকায় গি‌য়ে স‌ক্রিয় ভা‌বে অংশগ্রহন ক‌রে‌ছি। দলের যে কোন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভাবে অাছি এখনো।

দীর্ঘ ২৭ বছরের ম‌ধ্যে রাজনৈতিক জিবনে নিজের বা অন্য কারো জন্য, এম‌পি মন্ত্রী ও জেলার কোন নেতার কা‌ছে যায়‌নি কোন তদ্বিরে। দ‌লের নাম ভা‌ঙ্গি‌য়ে এক টাকা কামাই ক‌রেনি কখনো। যদি কেউ বলতে পারে প্রমান সহ তবে যে শাস্তি দিবেন মাথা পেতে নিব। নিজের শরিরের ঘাম ঝরানো অ‌র্থে কা‌জের ফা‌কে মিছিল মিটিং, অনলাই‌নে জামাত বিএন‌পি অপপ্রচা‌রের জবাব দি‌য়ে যা‌চ্ছি প্রায় প্র‌তিদিন প্র‌তিমুুহুর্ত। বর্তমান মহানগর অাওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দ্বয়, হাইব্রিড বিতর্কিত ও তাদের অনুগত্য পকেটের লোক দিয়া ৭৫ সদস্যর যে পকেট কমিটি জমা দিয়াছেন তা যদি পাশ হয় তাহলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিটি সংসদীয় অাসনে নেতিবাচক প্রভাব পরবে যাহার কুফল ভোগ করতে হবে বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগকেই।

ময়মনসিংহ অাওয়ামীলীগের একজন প্রতিষ্ঠার সন্তান, সদ্য সাবেক শহর কমিটির সহ-সভাপতি ও ভোটে নির্বাচিত ২বার বর্তমান ১৭নং ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্যর যে তালিকা কেন্দ্রীয় অফিসে দাখিল করা হয়েছে তাতে পিছন থেকে বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগের পিঠে ছুরি চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় অাওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের কাছে অামরা অামাদের বক্তব্য অভিযোগ অাকারে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়াছি । এখন দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিবেন, প্রকৃত বা ত্যাগী কর্মীদের নিয়া কমিটি পূর্নগঠন করবেন নাকি হাইব্রিড, বিএনপি ও জামাতের ব্যক্তিদের নিয়া যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তাদেরই অাওয়ামীলীগ করার অনুমোদন দিবেন? ময়মনসিংহ মহানগর অাওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্যর কমিটি জমা দেয়ার পর স্থানীয়, জাতীয় পেপার, ফেইসবুক ও টুইটারে ব্যপক প্রতিবাদের ঝড় উঠে এবং ময়মনসিংহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। দলের চেয়ে ব্যক্তির অাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতেই বিতর্কিতদের মহানগর অাওয়ামীলীগে অন্তর্ভুক্ত করাই মুল কারন বলে মনে করেন স্থানীয় অাওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অাগামী দিনে অামরাই থাকবো রাজপখে আল্লাহ্ রহমতে।

মন্তব্য করুন