চুরি ও হারিয়ে যাওয়া ১০-১৫টি মোবাইল উদ্ধার করল কোতোয়ালী পুলিশ

0
117
পুলিশের এএসআই আমীর হামজা। কর্মরত আছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায়। যিনি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হারিয়ে যাওয়া প্রায় ১০-১৫ টি মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ২০২১থেকে অক্টোবর ও নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত এ ফোনগুলো উদ্ধার করেন তিনি।
পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অদিতি পাল জানান, টাকা হারিয়ে গেলেও এত কষ্ট পেতাম না মোবাইলটি হারিয়ে যাওয়ার পর যে কষ্ট পেয়েছি। এখন খুব ভালো লাগছে। বলে বোঝানো যাবে না।
পেশায় শিক্ষক আলম মিয়া । তার ব্যবহৃত মোবাইলটি হারিয়ে ফেলেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। একরকম নিরাশ হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মনে মনে ধরে নিয়েছেন আর কোনোদিন প্রিয় মোবাইলটি ফিরে পাবেন না। তবে ডায়রি করার এক মাসের মধ্যেই কোতোয়ালি থানা থেকে ফোন আসে। মোবাইল নিয়ে যায়।
কোতোয়ালী ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, সেবাই পুলিশের মহান ব্রত। পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ নেতৃত্বে আমরা সার্বক্ষণিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিন্তকরণে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি মোবাইল হারানোকে আমরা শুধু মোবাইল হিসেবেই দেখি না এর সাথে অনেকের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, স্মৃতি, আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই এই সংক্রান্ত জিডিগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরো বলেন, এএসআই আমীর হামজা প্রযুক্তি সম্পর্কে অনেক দক্ষ। এজন্য থানায় মোবাইল হারানো সংক্রান্ত জিডি হলে ডাক পড়ে এএসআই আমীর হামজা উপর । তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে নিজ দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অনেক পরিশ্রম করে মরুভূমির মধ্য থেকে সুই খুঁজে বের করেন।
এএসআই অামীর হামজা বলেন, মোবাইল হারানোর জিডি হয় ছাত্র ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের। আমি সবই সমান গুরুত্বের সঙ্গেই তাদের হারানো মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করি। অনেক দামি জিনিস হারানোর চেয়ে মোবাইল হারানোর কষ্ট অনেক বেশি। কেননা মোবাইলে প্রয়োজনীয় নম্বর থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। জিডি করার পর ফোন উদ্ধার করে ভুক্তভোগীকে ফোন দিলে তারা অনেকে বিশ্বাসই করতে চান না। মোবাইল নেওয়ার সময় অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
এএসআই অামীর হামজা আরো বলেন, কারো হারানো মোবাইল উদ্ধার করে দিতে পারলে তখন নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। মনে হয় আমি পুলিশ হয়ে দেশের জন্য একটু হলেও কাজ করতে পারছি। হারানো মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষও আমাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন।

মন্তব্য করুন