বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয় যে চার সিনেমা

0
2613

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র বিশ্বের ১১ তম বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র। ঢাকার নবাব পরিবার বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) প্রথম চলচ্চিত্র প্রযোজনা করে। সর্বপ্রথম বাংলা চলচ্চিত্রের ছিল ‘সুকুমারী’ (১৯২৮) আর ‘দ্যা লাস্ট কিস’ (১৯৩১)। কিন্তু সর্বপ্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ১৯৫৬ সালে মুখ ও মুখোশ।

স্বাধীনতার আগে ৬৬-৬৭ থেকেই ভালো সিনেমা নির্মাণ শুরু হয় এবং ১৯৭৩-১৯৮৩ সময়টা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ ছিল। এর পর নব্বইয়ের দশকের শুরু অবধি ব্যবসা কিছুটা দমে গেলেও অনেক ভালমানের সিনেমা নির্মাণ হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ (১৯৮৯)। তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ফোক-ফ্যান্টাসিধর্মী চলচ্চিত্রটি ১২০০ হলে মুক্তি পায় এবং ২০ কোটি টাকা আয় করে।

এর পর সালমান শাহ ৯২-৯৭ এই সময়ে অনেক হিট চলচ্চিত্র উপহার দিলেও এর রেকর্ড ভাঙতে পারেনি, তার অভিনীত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ (১৯৯৫) সব চেয়ে কাছাকাছি গিয়ে ১৯ কোটি টাকা আয় করে। তারপর ২০০০-২০০৭ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর বাংলাদেশী ছবির উন্নতি আবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সময়ে এসে ‘মনপুরা’ (২০০৯) ছাড়াও অগ্নি (২০১৪), আয়নাবাজি (২০১৬), শিকারি (২০১৬) ও নবাব (২০১৭) ভালো ব্যবসা করেছে।

তবে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত যে সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছিল সেগুলোর আয়ের রেকর্ড এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি। ওই সময়ে চারটি ছবি মুক্তি পায় যার তিনটিই ছিল সালমান শাহয়ের।

ব্যবসা সফল সিনেমায় সবার উপরে রয়েছে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ২০ কোটি টাকা আয় করেছিল। এই রেকর্ড আজো কেউ ভাঙতে পারেনি। এরপর সিরিয়ালে তিনটি ছবিই সালমান শাহের। সর্বোচ্চ আয়ের দ্বিতীয় ছবিটি ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। সালমান শাহ, শাবনূর অভিনীত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এই ছবিটি আয় করেছিল ১৯ কোটি টাকা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে সালমান শাহ-সাহনাজ অভিনীত ‘সত্যের মৃত্যু নাই’। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আয় করেছিল ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সবশেষে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। সালমান শাহ-মৌসুমী অভিনীত ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আয় করেছিল ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।

এরপর আরাে অনেক ছবি ব্যবসা সফল আয় করে। ওই সময়ের এই চারটি ছবির বেকর্ড আজো কেউ ভাঙতে পারেনি। সূত্র: উইকিপিডিয়া

মন্তব্য করুন