কোতোয়ালী থানা বদলে যাওয়া গল্প

0
153
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার কারণে পাল্টে যাচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা। সীমানা প্রাচীরের দেয়ালে লেখা আছে, ‘পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ’। রয়েছে জাতীয় পতাকাসহ নানা চিত্রকর্ম। ফটক দিয়ে ঢোকার সময় হাতের ডান দিকে একটি ফুলের বাগান। লাগানো হয়েছে নানা ফুলের গাছ। গাছগুলোতে ফুলও এসেছে। রয়েছে একটি বসার ছাউনি। যেটি ‘সেবা ছাউনি’ নামে পরিচিত, জরুরি সেবা দেওয়া হবে সেখানে। মূল ভবনে ঢুকতে ঝোলানো ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘জিডি করতে টাকা নয়’, মামলা করতে টাকা নয়।
এসব দৃশ্য চোখে পড়বে ময়মনসিংহ মডেল থানায় ঢুকলে। অথচ বছর খানেক আগেও নগরের ব্যস্ততম অনেকের বিরক্তির কারণ ছিল এই থানা প্রাঙ্গণ। সারাক্ষণ জটলা লেগে থাকার পাশাপাশি পরিবেশ ছিল নোংরা। দুর্গন্ধ থাকতো নিয়মিত। থানায় আসা সেবা পাওয়া মানুষের ছিলনা কোন বাথরুম যায়গা। সেবা আসা রোগীদের জন্য বাথরুম ব্যাবস্থা করা হয়েছে । কিন্তু আগের সেই দৃশ্য এখন উধাও। এখন থানার পাশ দিয়ে গেলেই মন জুড়িয়ে যায়। ফুটন্ত ফুলের গন্ধে মন জুড়িয়ে যায়।
প্রবাদে ছিল, ‘বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ!’ কিন্তু ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার অনন্য পুলিশিং বদলে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা। ওসি,তদন্ত দুজনের দরজা খোলা সারাক্ষণ। কোন অনুমতি লাগেনা রুমে ঢুকতে।
এই থানায় যোগ দিয়ে বর্তমান ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ শুরু করেন ‘বিট পুলিশিং প্রোগ্রাম। এটি এখন প্রতি মাসে থানা এলাকা বিট পুলিশিং চালু রয়েছে। এর সুফল পেতে বসেছে প্রতিটি এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, থানার ভেতরে খালি জায়গা লাগানো হয়েছে হরেক রকমের ফুলের গাছ। যেটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে যাবে। সংস্কারের পর একসঙ্গে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে বসে সেবা দিতে পারেন। সেবাপ্রার্থীদের জন্য আনা হয়েছে নতুন চেয়ার ও টিভি। যেখানে চলে পুলিশের সেবা মুলক কাজ।
থানায় সেবা নিতে আসা একজন বলেন, এই এলাকায় অবস্থান হওয়ায় কোতোয়ালি থানার প্রায়ই আসা হয়। কিন্তু এই কোতোয়ালি থানাকে আমি আগে দেখিনি। সত্যি বদলে গেছে কোতোয়ালি থানা। আসলে কোতোয়ালি থানা এখন নগরের অন্য থানাগুলোর রোল মডেল।’
এসব বদলে যাওয়ার কারন হলো কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ ও তদন্ত ইন্সপেক্টর ফারুক হোসেন।

মন্তব্য করুন