একজন সফল পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম,বিপিএম

0
6413
একজন সফল পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম

জাহিদুল ইসলাম জীবন : ময়মনসিংহ জেলার জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে জেলা পুলিশ সুপার। তার কল্যানে জেলার নিরপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। এখন আর হয়তো শোনা যায়না রাতে বেলায় ছিনতাই,চুরি মত ঘটনা। একজন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সৎ, নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল পুলিশ।
তবে বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সদস্যদের কাজের মাধ্যমে দিন দিন মানুষ বাহিনীটির উপর আস্তা ফিরে পাচ্ছে। তেমনি এক কর্মকর্তা ময়মনসিংহে জেলা পুলিশ সুপার যিনি তার দায়িত্ব পালন করে ময়মনসিংহ বাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন। যিনি সকাল, দুপুর, সন্ধা, রাত জেগে বেতার বার্তা তার অধিনস্থদের দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
জেলা পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ ২ আগষ্ট ২০১৬ সালে দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকে বার বার তিনি জেলা বাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছেন, ময়মনসিংহ জেলার থানা গুলোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে একটা ভাল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পিছনে তার অবদানের কথা ময়মনসিংহ সাধারণ মানুষের জানা। তার কাজে জনসাধারন যেমন খুশি তেমনি তার অধিনস্থরাও সন্তুষ্ঠ।

জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরল ইসলাম যোগদানের পর থেকে তার চৌকস অফিসারদের নিয়ে রাত দিন পরিশ্রম করেন। ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকার দেড়শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। তাদেরকে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের সৎ পথে ফিরানোর জন্য হাতে রিস্কা ও সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছেন।
বিশেষ করে ময়মনসিংহ সন্ধার পর থেকে ছিনতাই প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। তার বাহিনী দিয়ে তিনি সন্ধার পর থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে ৭টি টিম তৈরি করে দিয়েছে যা শহরের বিভিন্ন স্পটে অভিযান পরিচালনা করেন। পাটগুদাম এলাকায় আগে প্রায় অটো বাইক থেকে ছিনতাই ঘটনা ঘটতো। এটি তার নজরে পরার পর সেখানে ভোর ৬টা থেকে রাত ১২ টা পযন্ত সাদা পোষাকে পুলিশ ডিউটি করে।

জেলা পুলিশ জঙ্গী দমন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বাল্য বিবাহ রোধে সচেতনতামূলক সভা, মাদক সেবীদের পূর্নবাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশাল সাফল্য দেখিয়েছে। জঙ্গী ও মাদক বিরোধী প্রায় তিন হাজার জনসচেতনামূলক কমিউনিটি পুলিশিং সভা করেন। ময়মনসিংহ সহ জেলার সকল থানার ফেসবুক আইডি খুলে জনগণের সাথে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে পুলিশী কার্যক্রম জোরদার করেছে সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম,বিপিএম।
ময়মনসিংহ যোগদান করে দেড় বছরে তার নেতৃত্বে জেলা পুলিশ এ সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশাল থেকে গ্রেফতারকৃত জঙ্গী সালাউদ্দিন কামরানের দেয়া জবানবন্ধী অনুযায়ী জেলা ডিবি, ডিএমপি’র সোয়াট ও অপারেশন স্ট্রমহিট-২৬ পরিচালনা করে হলি আর্টিজামের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোষ্ট ওয়ান্টেড জঙ্গী তামিমের নারায়নগঞ্জ ডেরায় সফল অভিযান পরিচালনা করে। সেই অভিযানে তামিম সহ ৩ জঙ্গী নিহত হয়।

ময়মনসিংহ শহরের কালীবাড়ী এলাকায় ভোগপণ্য সরবরাহের আড়ালে জঙ্গীরা নীরব নেটওয়ার্ক স্থাপন করলে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসে। তিনি কোতোয়ালী থানাকে গোপনে জঙ্গীদের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত করে। অবশেষে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে ৭ জঙ্গীকে গ্রেফতার করে। এ সময় বিপুল পরিমান জিহাদী বই ও সিডি উদ্ধার করে। তারপর ভালুকা থানা এলাকার হবির বাড়ী ইউপিতে একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় ২৭ আগস্ট শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে এক জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঐ সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক বোম ডিস্পোজাল ইউনিট এর সহযোগিতায় একটানা ২২ঘণ্টা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শক্তিশালী বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি নিরাপদে নিস্ক্রীয় করে অভিযান সম্পন্ন করেন। এটি তিনি সফলতা অর্জন করায় পুলিশের আইজিপি শহিদুল্লাহ ২ লাখ টাকা পুরোস্কার প্রদান করেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ের হাইওয়ের ৬৫ কিলোমিটার সড়ক সব সময় ঝুকিপূর্ণ। সড়ক ডাকাতি, দূর্ঘটনা ও হাইওয়েতে অবৈধ যান বন্ধের জন্য ৬৫ কিলোমিটার হাইওয়ে ১২ কোরের ফাইবার অপটিক দ্বারা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। আশা করা হচ্ছে শহর এলাকার অপরাধ সিসি ক্যামেরা বসানো হবে অচিরেই।

তিনি সুশীল সমাজের সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে জেলার জনবহুল এলাকা, হাট বাজারগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।
পাশাপশি তিনি ‘মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীদের এ পথ থেকে সরে না আসলে কঠোর সাঁজার আওতায় আনা হবে’ বলে হুশিয়ার করে দিচ্ছেন

এছাড়াও পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থানের ফলে ময়মনসিংহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্যান্য জেলার চেয়ে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জেলাবাসী বিশ্বাস করে।

মন্তব্য করুন